নার্সদের নিয়ে সমাজের মানসিকতা বদলানো উচিত: কঙ্গনা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ০২:২১ অপরাহ্ণ
নার্সদের নিয়ে সমাজের মানসিকতা বদলানো উচিত: কঙ্গনা
বিনোদন প্রতিবেদক:বলিউডের অন্যতম প্রভাবশালী ও স্পষ্টভাষী চিত্রনায়িকা কঙ্গনা রানাওয়াত। রুপালি পর্দায় যেকোনো চরিত্রকে ফুটিয়ে তুলতে তাঁর সততা ও কঠোর পরিশ্রমের কথা সবারই জানা। এবার তাঁর আসন্ন মেগা প্রজেক্ট ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’ চলচ্চিত্রে একজন নার্সের চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে এই পেশার ভেতরের নানা বাস্তব চিত্র খুব কাছ থেকে অবলোকন করেছেন তিনি। আর সেই বাস্তব অভিজ্ঞতার সূত্র ধরেই নার্সদের দৈনিক জীবনের লড়াই, কর্মক্ষেত্রে পোশাকের অস্বস্তি এবং তাঁদের প্রতি সমাজের মানুষের কুরুচিপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এবার প্রকাশ্যেই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন এই তারকা। কঙ্গনা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, নার্সদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি এবং মানুষের সেকেলে মনোভাবের আমূল ও ইতিবাচক পরিবর্তন আসা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘বিনোদন, গ্ল্যামার, ওটিটি ফ্ল্যাশ ও তারকা খতিয়ান’ এবং ‘ডিজিটাল কনটেন্ট, serieজ ট্রেইলার, রিভিউ ও রিলিজ ডেট ট্র্যাকিং উইং’ বিভাগের বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে কঙ্গনার নতুন সিনেমার অভিজ্ঞতা ও সামাজিক বার্তার বিস্তারিত খতিয়ান তুলে ধরা হলো।

সিনেমাটিতে অভিনয় করতে গিয়ে কঙ্গনা কাছ থেকে দেখেছেন একজন নার্সের পেশাগত জীবনের নানাবিধ চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে চিকিৎসকদের তুলনায় নার্সদের পোশাকের স্বাধীনতার চরম অভাব তাঁকে ভীষণভাবে পীড়িত করেছে। অভিনেত্রীর মতে, চিকিৎসকেরা কাজের ক্ষেত্রে পোশাকে অনেক বেশি আধুনিক ও আরামদায়ক স্বাধীনতা পেলেও নার্সদের একটি নির্দিষ্ট ও প্রাচীন ইউনিফর্ম পরেই বছরের পর বছর দায়িত্ব পালন করতে হয়, যা মোটেও আরামদায়ক নয়।

এই বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে কঙ্গনা রানাওয়াত গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের দেশে এখনও ব্রিটিশ আমলের সেই দাসত্বসুলভ ড্রেস কোড বা পোশাক নীতি চালু রয়েছে। শীত, গ্রীষ্ম কিংবা বর্ষা—সব ঋতুতেই নার্সদের সেই একই ধরণের বিদেশি ধাঁচের ও ভারী ইউনিফর্ম পরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এটি সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ ও মতামত হলেও, আমরা আমাদের ভারত ভাগ্য বিধাতা শুটিংয়ে অত্যন্ত সততা ও মর্যাদার সঙ্গে এই বাস্তব চিত্রটি পর্দায় ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি।

নার্সদের এই প্রচলিত ইউনিফর্মের সাথে পিন, ক্যাপ বা টাইট বেল্ট ব্যবহারের কঠোর বাধ্যবাধকতাকে মার্কিন নৌবাহিনীর কাঠামোর সাথে তুলনা করেছেন কঙ্গনা। তাঁর আক্ষেপ, প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে যুদ্ধক্ষেত্রে নার্সদের পরিস্থিতি যেমন ছিল, চিকিৎসাবিজ্ঞানের এত আধুনিকায়নের যুগে এসেও আজও যেন তাঁদের পোশাকের কড়াকড়ি ঠিক তেমনই রয়ে গেছে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে নার্সদের নিজস্ব পছন্দ ও শারীরিক স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রেখে এই পোশাকে কিছুটা שיথিলতা আনা এবং এতে ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় ছোঁয়া যোগ করা উচিত বলে মনে করেন এই বলিউড তারকা।

তবে কেবল পোশাকের অস্বস্তিই নয়, নার্সিং পেশাকে ঘিরে সমাজের একাংশের সস্তা ও নোংরা মানসিকতা নিয়েও গণমাধ্যমে তীব্র প্রতিবাদ ও ঘৃণা জানিয়েছেন এই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী अभिनेत्री। কঙ্গনার দাবি, এই মহান ও পবিত্র সেবামূলক পেশাকে প্রায়ই অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণভাবে যৌনতার সঙ্গে যুক্ত করে বিভিন্ন সস্তা ট্রল বা মন্তব্য করা হয়। তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন, মানুষের এই ধরণের নিচু ও বিকৃত মানসিকতায় অবিলম্বে পরিবর্তন আসা উচিত। আমার মনে হয়, চিকিৎসা খাতের মধ্যে নার্সিং পেশাটিকে সমাজ সবচেয়ে বেশি সস্তা যৌনতার দৃষ্টিতে দেখে থাকে, যা একজন নারী ও একজন সেবিকা হিসেবে অত্যন্ত দুঃখজনক এবং লজ্জাজনক।

চিকিৎসা খাতে পর্দার আড়ালে থেকে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করা এই মানুষগুলোর অপরিসীম অবদান মনে করিয়ে দিয়ে কঙ্গনা আরও বলেন, হাসপাতালের কথা উঠলেই আমরা সাধারণ মানুষেরা শুধু বড় বড় চিকিৎসকদের কথাই ভাবি। কিন্তু চিকিৎসকদের বাইরেও যে লক্ষ লক্ষ নার্স ও ওয়ার্ড কর্মী প্রতিদিন নিজের জীবন বাজি রেখে পুরো চিকিৎসা ব্যবস্থাকে সচল রাখছেন, তাঁদের অধিকারের কথা আমাদের সবার আগে ভাবা উচিত। এই মানুষগুলোর কাজকে সহজ, নিরাপদ ও সর্বোচ্চ সম্মানজনক করতে হলে সবার আগে আমাদের সামাজিক মানসিকতা বদলাতেই হবে।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন