মার্চে সম্পূরক বাজেট দিতে সরকারের ব্যর্থতা আইনের লঙ্ঘন: সংসদে নাজিবুর রহমান
অনলাইন ডেস্ক: জাতীয় সংসদে বাজেট পাসের আগেই সংসদের আগাম অনুমোদন ছাড়া সরকারি অর্থ ব্যয় করার তীব্র সমালোচনা করেছেন জামায়াত দলীয় সংসদ সদস্য (এমপি) নাজিবুর রহমান মোমেন। এই প্রবণতাকে ‘ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়ে দেওয়া’র সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, দেশের সংসদীয় নিয়মনীতি অমান্য করে এভাবে অর্থ ব্যয় করা আইনের সুস্পষ্ট ব্যত্যয়।
সোমবার (১৫ জুন) সংসদের অধিবেশনে সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
নাজিবুর রহমান মোমেন তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আমাদের দেশ যে পার্লামেন্টারি সিস্টেমে রান হচ্ছে, এটা কিন্তু এক্সিকিউটিভ (নির্বাহী) সিস্টেম না। এখানে উচিত ছিল পার্লামেন্টের অনুমোদন নিয়ে অর্থ ব্যয় করা। কিন্তু সেটা না করে, ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়ে দেওয়ার মতো আগে খরচ করে ফেলা হয়েছে; এরপর অনুমোদনের জন্য পার্লামেন্টের কাছে আসা হয়েছে। এর ফলে পার্লামেন্ট তার প্রকৃত ভূমিকা ঠিকভাবে পালন করতে পারছে না।”
সংসদীয় নিয়মের ব্যত্যয় ঠেকাতে পাস হওয়া একটি আইনের কথা উল্লেখ করে জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, “সরকারি অর্থ ও বাজেট ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৯-এর ১২ নম্বর অনুচ্ছেদে নির্দিষ্ট করে বলা হয়েছে—যথাসম্ভব মার্চ মাসের মধ্যে সম্পূরক বাজেট সংসদে পেশ করতে হবে। আইনের মূল স্পিরিট বা চেতনাও বলছে, আগে সংসদের অনুমোদন নিতে হবে এবং তারপরে খরচ করতে হবে। কিন্তু কেন এমনটি করা হলো না, তার কোনো সম্পূরক ব্যাখ্যা বাজেটের কোথাও দেওয়া হয়নি। এটি আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।” আইনের এই ফাঁকফোকর বন্ধ করতে ‘যথাসম্ভব’ শব্দটি আইন থেকে তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি সংসদে এ সংক্রান্ত একটি ‘বেসরকারি বিল’ আনার ঘোষণাও দেন।
নাজিবুর রহমান আরও বলেন, “উনারা বলেন সংসদ সার্বভৌম। আমরা সংসদকে ওভাবে সার্বভৌম বলি না, তবে সংসদের নিয়মে যেহেতু দেশ পরিচালনা করার কথা বলা হয়েছে, তাই সংসদের আগাম অনুমোদন নিয়েই সব অর্থ খরচ করা উচিত।”
জামায়াত এমপির এই যৌক্তিক বক্তব্যের পর অধিবেশনের সভাপতি স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে পূর্ণ সহমত পোষণ করেন। স্পিকার বলেন, “এটা আমিও বিশ্বাস করি, রাষ্ট্রের যা কিছু খরচ, তা আগে সংসদে অনুমোদন নেওয়া উচিত।” স্পিকারের এই মন্তব্যের পর সংসদে উপস্থিত সব দলের সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে নাজিবুর রহমান মোমেনের উত্থাপিত বিষয়টিকে জোরালো সমর্থন জানান।
তবে বাস্তবতার কথা উল্লেখ করে স্পিকার আরও যোগ করেন, “নানা কারণে হয়তো এটা সবসময় সম্ভব হয় না। অতীতের প্রত্যেক সংসদে এভাবেই বাজেট পাস হয়েছে এবং এটাই এখন একটা ‘ঐতিহ্য বা ট্রাডিশন’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে ভালো হতো—প্রত্যেক খরচের আগে যদি সংসদে অনুমোদন নেওয়ার মতো কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা করা যেত। এতে সংসদের সার্বভৌমত্ব আরও দৃঢ়তর হতো। যাই হোক, সে ব্যাপারে আমরা ভবিষ্যতের জন্য চিন্তাভাবনা করে দেখতে পারি।”
|