শিক্ষাক্রমে যুক্ত হচ্ছে নতুন ৪ বই, বদলে যাচ্ছে শিখনপদ্ধতি

প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ
শিক্ষাক্রমে যুক্ত হচ্ছে নতুন ৪ বই, বদলে যাচ্ছে শিখনপদ্ধতি

অনলাইন ডেস্ক: দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের অংশ হিসেবে আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে নতুন চারটি পাঠ্যবই। প্রচলিত মুখস্থবিদ্যা ও শুধুই পরীক্ষানির্ভর পাঠদানের গণ্ডি পেরিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, সৃজনশীলতা, নৈতিক শিক্ষা এবং বাস্তবমুখী হাতে-কলমে দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে নতুন এই বইগুলো প্রণয়ন করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।

শিক্ষাক্রমে যুক্ত হতে যাওয়া বই চারটি হলো— চতুর্থ শ্রেণির জন্য ‘খেলাধুলা’ ও ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ও ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’। আগামী ২৫ অক্টোবর জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসি) বিশেষ সভায় বইগুলোর পাণ্ডুলিপি চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার কথা রয়েছে। এনসিসি থেকে সবুজ সংকেত মিললেই দ্রুত চার বইয়ের প্রায় দেড় কোটি কপি ছাপানোর দরপত্র ও মুদ্রণ প্রক্রিয়া শুরু করবে কর্তৃপক্ষ। এনসিটিবি সংশ্লিষ্টরা আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে বই ছাপার কাজ শেষ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন সরকারের এই উদ্যোগ সম্পর্কে জানান, শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক শিষ্টাচার, পারিবারিক ঐতিহ্য ও সুনাগরিকের গুণাবলি অর্জনের পাশাপাশি শিক্ষার মাধ্যমেই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় শিক্ষাবিদদের সমন্বয়ে এই শিক্ষাক্রম তৈরি করা হয়েছে।

এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, চতুর্থ শ্রেণির ‘খেলাধুলা’ বইটি সাজানো হয়েছে ১৪টি অধ্যায়ে। এতে ক্রিকেট, ফুটবল, সাঁতার, কাবাডি ও দাবার নিয়মের সঙ্গে সঙ্গে আত্মরক্ষামূলক কৌশল হিসেবে কারাতে, জুডো ও তায়েকোয়ান্দো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি খেলাধুলার সময় ইনজুরি, হিট স্ট্রোক, নাক দিয়ে রক্ত পড়া ও প্রাথমিক চিকিৎসার মতো জীবনরক্ষাকারী জ্ঞান পাবে শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে ১১ অধ্যায়ের ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ বইটিতে স্থান পেয়েছে ভাষার ইতিহাস, খাবার, পোশাক, সামাজিক রীতিনীতি, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্য এবং শিশুদের ঐতিহ্যবাহী প্রতিভা অন্বেষণমূলক আয়োজন ‘নতুন কুঁড়ি’র শুরুর ইতিহাস।

ষষ্ঠ শ্রেণির ৬ অধ্যায়ের ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বইটিতে ভীতিহীন আনন্দময় পরিবেশে দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা, নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা ও পারস্পরিক সম্পর্কের মাধ্যমে শেখাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৮ অধ্যায়ে সাজানো ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ বইয়ে প্রযুক্তির ব্যবহার, ছোট উদ্যোক্তা তৈরি, সবুজ প্রযুক্তি ও টেকসই জীবনযাপনের পাঠ রাখা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের বাস্তব কাজের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা প্রদান করবে। এনসিটিবির সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক এ কে এম শওকত আলী খান জানান, এই সমন্বিত সংস্কারের ফলে শিক্ষার্থীরা পুঁথিগত পড়াশোনার বৈষম্য কাটিয়ে আনন্দময় পরিবেশে দক্ষতাভিত্তিক প্রকৃত শিক্ষা অর্জন করতে পারবে।

সকালবেলা / নুসরাত