দাঁড়িপাল্লার ছবি থাকা ৩৮ লাখ বই সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে এনসিটিবি
অনলাইন ডেস্ক: ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) পাঠ্যবইয়ে ‘দাঁড়িপাল্লা’র ছবি ব্যবহার ঘিরে দেশজুড়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের অবসান ঘটাতে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। বিতর্কিত ওই প্রতীক বাদ দিয়ে সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠাগুলো সংশোধনের জন্য মোট ৩৮ লাখ বইয়ের ওপর বিশেষ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।
এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের প্রথম অধ্যায়ে ‘উপাত্ত ও তথ্য’ অংশে ‘নলেজ পিরামিড’ বা জ্ঞানের পিরামিডে ‘প্রজ্ঞা’ বোঝাতে দাঁড়িপাল্লার ছবি রাখা হয়েছিল। অথচ এর আগের বছরগুলোতে অর্থাৎ ২০২৫ ও ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে একই ধারণা বোঝাতে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি বা অন্যান্য প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছিল। এই পরিবর্তন ও প্রতীক নির্বাচন নিয়ে আপত্তি ওঠার পর বোর্ড কর্তৃপক্ষ সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেয়।
নির্ধারিত এই ৩৮ লাখ বইয়ের মধ্যে ইতিমধ্যে প্রায় ১৮ লাখ বই দেশের বিভিন্ন উপজেলা ও স্কুল পর্যায়ে সরবরাহ বা বিতরণ করা হয়ে গেছে। বাকি ২০ লাখ বইয়ের মুদ্রণকাজ বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রেসে চলমান রয়েছে। এনসিটিবি জানিয়েছে, মাঠপর্যায়ে সরবরাহ করা বইগুলো পুনরায় ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হবে এবং ত্রুটিপূর্ণ পৃষ্ঠাটি বাদ দিয়ে সেখানে নতুন সংশোধিত পৃষ্ঠা সংযোজন করা হবে।
এদিকে পাঠ্যবই পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রথম শ্রেণির ‘আমার বাংলা বই’-এ ৩৪টি, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ২৩টি এবং তৃতীয় শ্রেণিতে ২৫টি—অর্থাৎ সর্বমোট ৮২টি নৌকার ছবি অপ্রাসঙ্গিকভাবে বা বারবার ব্যবহার করা হয়েছে। নদীমাতৃক বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নৌকার ছবি প্রাসঙ্গিক হলেও কোনো কোনো পাঠের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও এগুলোর আধিক্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে এনসিটিবির প্রাথমিক শিক্ষাক্রমের সদস্য অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল হায়দার গণমাধ্যমকে জানান, পাঠ্যবইয়ে ব্যবহৃত ছবিগুলো সাধারণত বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল রেখেই শিল্পীরা এঁকে থাকেন। কনটেন্ট বা মূল বিষয়বস্তু পরিবর্তন না করলে হুট করে ছবি পরিবর্তন করা বেশ জটিল। যেহেতু প্রাথমিকের এসব বইয়ের ছাপার কাজ ইতিমধ্যে প্রায় শেষ পর্যায়ে, তাই চলতি বছর এগুলো সংশোধনের কোনো সুযোগ নেই। তবে এনসিটিবি পরিকল্পনা নিয়েছে যে, ২০২৮ শিক্ষাবর্ষের নতুন পাঠ্যবইগুলোতে সার্বিক বিষয় মাথায় রেখে আরও বড় ধরনের পরিবর্তন ও মার্জিত রূপ আনা হবে।
সকালবেলা / নুসরাত