খাটাল অনুমোদন: আবেদনকারীদের অপেক্ষা, বাস্তবায়ন হয়নি উচ্চ আদালতের নির্দেশনা

খাটাল অনুমোদন: আবেদনকারীদের অপেক্ষা, বাস্তবায়ন হয়নি উচ্চ আদালতের নির্দেশনা

অনক আলী হোসেন শাহিদীঃ

সীমান্তে চোরাচালান রোধ, বৈধ বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সীমান্তবর্তী পাঁচ জেলায় গবাদিপশুর বিট/খাটাল স্থাপনের উদ্যোগ এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন নং-১১০৭৭/২০২৫ ও ২১৬৩৫/২০২৫ এর নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন পার হলেও কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়নি।

উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্ট পাঁচটি সীমান্ত এলাকায় বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত নীতিমালার আলোকে খাটাল স্থাপনের জন্য আবেদন করেছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলাধীন ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের জোহরপুর/মাসুদপুর বিওপি এলাকায় হোসেন ট্রেডিং এর পক্ষে একরাম হোসেন, ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলাধীন ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতাধীন মাটিলা/জুললি/বাগাডাঙ্গা সীমান্ত এলাকায় হংকং ইন্টারন্যাশনাল এর পক্ষে মোঃ শামীম রেজা, সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলাধীন ১৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতাধীন আটগ্রাম বিওপি এলাকায় ডিএস কনস্ট্রাকশন লিমিটেড এর পক্ষে মোঃ শামীম রেজা, সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলাধীন ১৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতাধীন কৈখালী/দুরমুজখালী/খড়মী এলাকায় মেসার্স সরদার ট্রেডার্স এর পক্ষে কাজী রোবায়তুল ইসলাম, এবং যশোর জেলার শার্শা উপজেলাধীন ২১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতাধীন পুটখালী বিওপি এলাকায় মেসার্স স্টার এজেন্সি এর পক্ষে মোঃ নাসিম রেজা পিন্টু ও মোঃ শামীম রেজা আবেদন করেছেন।

আবেদনকারীরা খাটাল নীতিমালার আওতায় তাদের কার্যক্রম পরিচালনার অঙ্গীকার করেছেন। তারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, কোনো প্রকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হবে না, আমদানিকৃত গবাদিপশু কোনোভাবেই চোরাচালান বা অবৈধভাবে বাজারজাত করা হবে না এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার পাশাপাশি পরিবেশের ক্ষতি রোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হবে। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত পরিদর্শনের ব্যবস্থাও প্রস্তাব করা হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আবেদনকারীরা ইতোমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন দাখিল করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। এমনকি উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তা বাস্তবায়নের দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবিত খাটালগুলো চালু করা গেলে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে এবং বৈধ পথে গবাদিপশু আমদানির মাধ্যমে সরকার বিপুল রাজস্ব অর্জন করতে পারবে। পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি সচল হবে এবং বাজারে পশুর সরবরাহ স্থিতিশীল থাকবে।

এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট মহল দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং খাটাল নীতিমালার কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে জনস্বার্থে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে।

মন্তব্য করুন