বাজেট পরবর্তী প্রথম দিনেও মুরগি, ডিম ও মাছের বাজার স্থিতিশীল

প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ
বাজেট পরবর্তী প্রথম দিনেও মুরগি, ডিম ও মাছের বাজার স্থিতিশীল

নিজস্ব প্রতিবেদক:জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত নতুন বাজেট ঘোষণার পরদিন আজ শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানীর প্রোটিন বাজারে কোনো ধরনের নেতিবাচক প্রভাব বা বাড়তি মূল্যের উত্তাপ দেখা যায়নি। সাধারণত বাজেট পেশের পরদিন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়, এবার ব্রয়লার মুরগি, ডিম ও মাছের বাজারে তার সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখা গেছে। আগের সপ্তাহের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে স্থিতিশীল মূল্যে বিক্রি হচ্ছে প্রায় সব ধরনের প্রাণিজ প্রোটিন।

আজ শুক্রবার (১২ জুন) সকালে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘অভ্যন্তরীণ বাজারদর, খুচরা বাজার ব্যবস্থাপনা ও ভোক্তা অধিকার খতিয়ান’ এবং ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ, মূল্য পর্যবেক্ষণ ও ব্যবসায়ী কল্যাণ উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে বাজেট পরবর্তী প্রোটিন বাজারের এই বিস্তারিত খতিয়ান তুলে ধরা হলো।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেট ও রায়েরবাজারসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি আগের মতোই ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া সোনালি মুরগির কেজি ৩৪০ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে। ডিমের বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাতভেদে ব্রয়লারের সাদা ডিম প্রতি ডজন ১১০ টাকা এবং লাল বা ব্রাউন রঙের ডিম ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। রায়েরবাজারের মুরগি বিক্রেতারা জানান, বাজেটে পোল্ট্রি খাতের ওপর সরাসরি কোনো নতুন শুল্ক বা কর আরোপ না করায় পাইকারি ও খুচরা উভয় পর্যায়েই দাম বাড়ার কোনো কারণ তৈরি হয়নি।

অন্যদিকে মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন প্রজাতির মাছ আগের নির্ধারিত দামের কাছাকাছিই বিক্রি হচ্ছে। আজকের বাজারে প্রতি কেজি পাঙাশ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৩০ টাকা, রুই ২৬০...৩৫০ টাকা, এবং মৃগেল ২৫০...৩০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া দেশি টেংরা ৬০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ টাকা এবং শিং মাছ ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারে চিংড়ির দাম কিছুটা বাড়তি দেখা গেছে, যা আকার ও জাতভেদে প্রতি কেজিতে ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। টাউন হল মার্কেটের মাছ ব্যবসায়ী ফিরোজ মিয়া জানান, ঈদের পর মাছের বাজার আগের তুলনায় কিছুটা কমতির দিকে রয়েছে এবং নিয়মিতভাবে বাজারে যে ২০-৩০ টাকা দাম ওঠানামা করে, তার বাইরে নতুন কোনো পরিবর্তন নেই।

মোহাম্মদপুর বাজারে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আবু দাউদ বলেন, ঈদের পর থেকে মাছ ও মুরগির বাজার কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং গতকাল বাজেট ঘোষণার পরেও বাজারে তার কোনো প্রভাব পড়েনি। তবে ডিম ব্যবসায়ী সুলতান আহমদ সতর্ক করে বলেন, সরকার যেহেতু এই খাতে কর বাড়ায়নি, তাই দাম বাড়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। এরপরও যদি আগামী দিনগুলোতে বাজারে দাম বাড়ে, তবে তা কেবল অসাধু ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম সিন্ডিকেটের কারণেই বাড়তে পারে। এই বিষয়ে বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার রাখার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ ভোক্তারা।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন