ডিজিটাল মামলার ভয়ে চালকরা
ঢাকার সড়কে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে শুরু হয়েছে নতুন যুগ। এখন আর শুধু ট্রাফিক সার্জেন্টের উপস্থিতি নয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) ক্যামেরাও নজর রাখছে প্রতিটি মোড়ে। আর এই নজরদারির প্রথম সপ্তাহেই রাজধানীতে তিন শতাধিক ডিজিটাল মামলা হয়েছে। নেই কোনো তদবির কিংবা সার্জেন্টদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা—আইন ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ধরা পড়ছে অপরাধ।
ঠিক কোন কোন মোড়ে এআই ক্যামেরা বসানো হয়েছে, তা চালকদের কাছে স্পষ্ট নয়। ফলে রাজধানীর সড়কে তৈরি হয়েছে একধরনের নীরব আতঙ্ক। চালকদের ভাষ্যমতে, আগে সার্জেন্টের কাছে অনুরোধ করার সুযোগ থাকলেও ক্যামেরার কাছে সেই সুযোগ নেই। তাই সিগন্যাল ভাঙা বা উল্টো পথে গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকছেন অনেকেই।
ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, এসব ক্যামেরা লাল বাতি অমান্য, উল্টো পথে চলাচল, স্টপ লাইন অতিক্রম, অবৈধ পার্কিং, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো এবং গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার শনাক্ত করছে। এরপর ভিডিও ও স্থিরচিত্র বিশ্লেষণ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলার নোটিস পাঠানো হচ্ছে গাড়ির মালিকের কাছে।
ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরোয়ার জানান, গত এক সপ্তাহে তিনশোর বেশি মামলা হয়েছে। আপাতত আটটি পয়েন্টে এই ব্যবস্থা চালু থাকলেও শিগগিরই আরও ৩০টি পয়েন্টে এই প্রযুক্তি বসানো হবে। তিনি বলেন, “শাস্তি নয়, শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্যই এমন ব্যবস্থা। আইন অমান্যকারী নিজেই ভিডিওতে তার অপরাধ দেখতে পারবেন।”
প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থাকে ইতিবাচকভাবে দেখলেও কিছু চ্যালেঞ্জের কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। বিআরটিএর ডেটাবেজ পুরোপুরি নির্ভুল না হলে ভুল ব্যক্তির কাছে মামলা পৌঁছানোর আশঙ্কা থাকে। পরিবহন শ্রমিক নেতাদের মতে, বিআরটিএর তথ্য হালনাগাদ করা এই প্রযুক্তির সফলতার জন্য জরুরি।
তবে সামগ্রিকভাবে এই প্রযুক্তি আইন প্রয়োগে স্বচ্ছতা আনবে এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
|