‘সমন্বয়ক’ পরিচয়ে প্রতারণা: পরীক্ষা দিতে পারলেন না ৬ শিক্ষার্থী

প্রকাশ: রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৪৫ অপরাহ্ণ
‘সমন্বয়ক’ পরিচয়ে প্রতারণা: পরীক্ষা দিতে পারলেন না ৬ শিক্ষার্থী

এম. জহিরুল হক মিলন, ফেনী প্রতিনিধি: এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার শিকার হয়ে শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা দেওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছেন ছয়জন পরীক্ষার্থী। ফেনীর পরশুরাম উপজেলার আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম কলেজে এই ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত যুবকের নাম ইবারুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে জিসান। তিনি পরশুরাম পৌর এলাকার সলিয়া চৌধুরী বাড়ির ইকরামুল ইসলাম চৌধুরীর ছেলে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর জেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সূত্রে জানা গেছে, কলেজের নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া ছয় শিক্ষার্থীকে পাস করিয়ে ফরম পূরণের বন্দোবস্ত করার প্রতিশ্রুতি দেন ইবারুল। নিজেকে কখনো ‘জুলাই যোদ্ধা’ আবার কখনো ‘সমন্বয়ক’ পরিচয় দিয়ে পরশুরাম বাজারের একটি রেস্তোরাঁয় বসে তিনি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ জনপ্রতি ৭ হাজার ৫০০ টাকা করে নেন। এভাবে তিনি মোট ৫০ হাজার টাকা আদায় করেন। তবে সংগৃহীত টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়। ফলে নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ায় ওই ছয় শিক্ষার্থী চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক জানান, টাকা নেওয়ার পর বিষয়টি গোপন রাখতে বাধ্য করেছিলেন ইবারুল। বিষয়টি প্রকাশ পেলে অধ্যক্ষ পরীক্ষা দিতে দেবেন না বলে তিনি শিক্ষার্থীদের ভয় দেখান। একই সঙ্গে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে নিজের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেন।

প্রতারণার শিকার পূর্ব অলকা এলাকার এক শিক্ষার্থী আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, "প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার ভয়ে আমরা এতদিন মুখ খুলিনি। কিন্তু পরবর্তীতে দেখতে পাই, তিনি প্রতারণা অব্যাহত রেখে আরও টাকা দাবি করছেন।"

স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত ইবারুলের বিরুদ্ধে পূর্বেও অবৈধ বালু ও মাটি উত্তোলনসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ইবারুল ইসলামের বাবা ইকরামুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, "শিক্ষার্থীরা বাড়িতে এসে বিষয়টি আমাকে জানিয়েছে। ছেলেটি মানুষের টাকা হাতিয়ে নিয়ে সৌদি আরবে ওমরাহ পালনে চলে গেছে। আমার কাছে বর্তমানে গচ্ছিত টাকা নেই; জমি বিক্রি করে ভুক্তভোগীদের টাকা পরিশোধ করতে হবে।"

অভিযোগের বিষয়ে ইবারুল ইসলাম চৌধুরীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি শিক্ষার্থীদের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন এবং এ বিষয়ে সংবাদ পরিবেশন না করার অনুরোধ জানান।

এ বিষয়ে আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম কলেজের অধ্যক্ষ ক্যাপ্টেন (অব.) দিদারুল আলম জানান, নির্বাচনী পরীক্ষায় সর্বোচ্চ দুই বিষয়ে অকৃতকার্যদের রেজুলেশনের মাধ্যমে সুযোগ দেওয়া হলেও তিন বা ততোধিক বিষয়ে অকৃতকার্যদের কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত ব্যাংকে টাকা জমা দিয়ে ফরম পূরণ করতে হয়। বোর্ডের নিয়মের বাইরে অনৈতিক লেনদেন করা শিক্ষার্থী ও গ্রহীতা—উভয়েই অপরাধে জড়িত।

পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশ্রাফুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এআইএল/সকালবেলা


মন্তব্য করুন