বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির তদন্ত প্রতিবেদন ৯৭ বারের মতো পেছাল

প্রকাশ: রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৪:২৫ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির তদন্ত প্রতিবেদন ৯৭ বারের মতো পেছাল
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি মামলার প্রতিবেদন জমা আবার পিছাল

অনলাইন ডেস্কঃ বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে রিজার্ভ চুরির ঘটনায় দায়ের করা বহুল আলোচিত অর্থপাচার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা ৯৭ বারের মতো পিছিয়েছে। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন ঢাকার আদালত।

আজ রবিবার (৯ আগস্ট, ২০২৬) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহর আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে নির্ধারিত দিনে মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় আদালত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন এই তারিখ পুনর্নির্ধারণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) রোকুনুজ্জামান।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক পেমেন্ট নেটওয়ার্ক সুইফট (SWIFT) কোডের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জালিয়াতি করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার (তৎকালীন মুদ্রামান অনুযায়ী যা প্রায় ৬৮০ কোটি টাকা) চুরি করে নেয় আন্তর্জাতিক হ্যাকার চক্র। স্থানান্তরিত এই বিপুল অংকের অর্থ পরবর্তীতে ফিলিপাইনের ক্যাসিনো ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে পাচার করা হয়েছিল। ঘটনার প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেশের অভ্যন্তরেরই কোনো একটি প্রভাবশালী চক্রের সহায়তায় এই অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করেছিলেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ রাজধানীর মতিঝিল থানায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের যুগ্ম পরিচালক জুবায়ের বিন হুদা বাদী হয়ে অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা করেন। মামলাটিতে সরাসরি কাউকে অভিযুক্ত না করে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হয়। মামলাটির তদন্তের ভার পায় সিআইডি, কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে দফায় দফায় সময় আবেদন করলেও সংস্থাটি কোনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করতে পারেনি।

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে খোয়া যাওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপাইনের স্থানীয় মুদ্রা পেসোতে রূপান্তর করে তিনটি বড় ক্যাসিনোতে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এর মধ্যে এক ক্যাসিনো মালিকের নিকট থেকে পরবর্তীতে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার উদ্ধার করে ফিলিপাইন সরকার বাংলাদেশ সরকারকে বুঝিয়ে দেয়। তবে অবশিষ্ট ৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলার আজ পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

চুরি হওয়া অর্থ উদ্ধারের লক্ষ্যে রিজার্ভ চুরির তিন বছর পর ২০১৯ সালে নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটন সাদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে আরসিবিসিসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একটি আইনি মামলা দায়ের করে বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল বা আদালতের ‘পর্যাপ্ত এখতিয়ার’ না থাকার কারণ দেখিয়ে ২০২২ সালের এপ্রিলে ওই নিউ ইয়র্কের আদালত বাংলাদেশ ব্যাংকের আবেদনটি খারিজ করে দেয়। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্য উপযুক্ত এখতিয়ারভুক্ত আদালতে বাংলাদেশ ব্যাংক পুনরায় আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য মামলা করে বলে বিভিন্ন সময়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

মন্তব্য করুন