বেতাগীতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে এক কক্ষে দুই শ্রেণির পাঠদান

প্রকাশ: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৫ অপরাহ্ণ
বেতাগীতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে এক কক্ষে দুই শ্রেণির পাঠদান

মোঃ সোহেল রানা, বরগুনা: বরগুনার বেতাগী উপজেলার ৩৭ নং করুনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ একটি ভবন পড়ে থাকলেও তা অপসারণ বা নিলামের কার্যকর ব্যবস্থা না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে শ্রেণিকক্ষের সংকটের কারণে একটি কক্ষে একসঙ্গে দুই শ্রেণির পাঠদান করায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়টির পাশে দীর্ঘদিন ধরে একটি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন রয়েছে। ভবনটি বর্তমানে শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী না হলেও এর আশপাশে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করে। বিভিন্ন সময়ে ভবনটির ছাদের কিছু অংশ খসে পড়ে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। ফলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

শ্রেণিকক্ষের সংকটের কারণে বিদ্যালয়টিতে একটি কক্ষের মধ্যে একই সময়ে দুই শ্রেণির পাঠদান করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ, পাঠ গ্রহণ এবং শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত পাঠদানের শ্রেণিকক্ষ নেই। এ কারণে একটি শ্রেণিকক্ষের মধ্যে দুই শ্রেণির ক্লাস চালাতে হচ্ছে। পাশে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটির স্থানে সরকার নতুন ভবন নির্মাণ করলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে এবং শ্রেণিকক্ষের সংকটও অনেকটা দূর হবে।

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জানান, বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটির বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ভবনটি নিলামে দেওয়ার পাশাপাশি সেখানে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য আবেদন করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে পড়ে রয়েছে। শিক্ষার্থীরা এর আশপাশে খেলাধুলা করায় যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই দ্রুত ভবনটি নিলামের মাধ্যমে অপসারণ করে সেখানে নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জানান, ৩৭ নং করুনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনসহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নিলামে তোলার জন্য ইতোমধ্যে তিন ধাপে উপজেলা প্রশাসনকে অনুরোধ করা হয়েছে। অতি দ্রুত এর কার্যকর প্রতিফলন পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।

অভিভাবকদের প্রত্যাশা, দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি অপসারণ করে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে একদিকে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে শ্রেণিকক্ষের সংকট নিরসনের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন