শিক্ষার্থীদের চুল কেটে দিলেন প্রধান শিক্ষক, অভিভাবকদের ক্ষোভ
আবু ইউসুফ (নওগাঁ প্রতিনিধি): নওগাঁর বদলগাছীতে স্কুলের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির অন্তত ১৫ জন শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে খোপ খোপ করে কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এতে শিশুদের চুলের স্বাভাবিক আকৃতি নষ্ট হওয়ায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার কোলা ইউনিয়নের কোলার পালশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের নাম শহিদুল ইসলাম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পালশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির অন্তত ১৫ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে খোপ খোপ করে কেটে দেন প্রধান শিক্ষক। হঠাৎ এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে। অভিভাবকদের অভিযোগ, এর আগেও ওই শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মারধরসহ নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছেন। এমনকি অতীতে এক শিক্ষার্থীর ভ্রুর চুলও কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল।
ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে কয়েকজন ছাত্র ও অভিভাবককে বলতে শোনা যায়, প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম প্রায়ই কারণে-অকারণে শিক্ষার্থীদের মারধর ও নির্যাতন করেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ফাহামুদ হোসাইনের বাবা মিলন বলেন, "বাড়ি এসে দেখি আমার ছেলের মাথার স্বাভাবিক চুলগুলো খোপ খোপ করে কেটে দেওয়া হয়েছে।" আরেক অভিভাবক রকেট হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, শীতের মধ্যে শিশুদের এভাবে চুল কেটে দেওয়ায় তারা চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে। মিতু বানু নামের আরেক অভিভাবক জানান, সম্প্রতি তাঁর ছেলেকে এমনভাবে মারধর করা হয়েছে যে তার দুই পা রক্তাক্ত হয়ে যায়, যার কারণে সে এখন স্কুলে যেতে ভয় পায়। অভিভাবকরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবি করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কোলার পালশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুঠোফোনে জানান, ছেলে-মেয়েদের চুল বড় হয়ে চোখে পড়ায় তিনি নিজেই কয়েকজন শিক্ষার্থীর কপালের ওপরের চুল কেটে দিয়েছেন। অভিভাবকদের না জানিয়ে বা নাপিত না ডেকে কেন এভাবে চুল কেটে দেওয়া হলো—এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমান জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা রহুল আমিনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনি বলেন, "ঘটনাটি আমি শুনেছি। দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।"
এআইএল/সকালবেলা