পিডিবির নীরবতায় গুরুদয়াল মুক্তমঞ্চে অবাধে চলছে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ
নূর আহাম্মদ পলাশ (কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি): কিশোরগঞ্জ পৌর শহরের নরসুন্দা লেকসিটির ‘গুরুদয়াল মুক্তমঞ্চ’ এখন প্রভাবশালী মহলের দখলে চলে গেছে। মুক্তমঞ্চের চারপাশ ঘিরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে শতাধিক অবৈধ দোকানপাট ও রেস্তোরাঁ গড়ে তোলায় সাধারণ মানুষের বিনোদনের পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে। বসার বেঞ্চ ও হাঁটার পথগুলো বেদখল হওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে দর্শনার্থীদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নির্মল পরিবেশ উপভোগ করতে আসা মানুষ দোকানপাট ও জনাকীর্ণতার কারণে হাঁটার জায়গা পাচ্ছেন না। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়ে কতিপয় ব্যক্তি প্রতিটি দোকান থেকে প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ টাকা চাঁদা আদায় করছেন। পাশাপাশি মিটার ছাড়াই অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে চলছে অতিরিক্ত বাণিজ্য। দোকানগুলোর বর্জ্য সরাসরি নরসুন্দা নদী ও কলেজ মাঠে ফেলায় পরিবেশ দূষণ চরমে পৌঁছানোর পাশাপাশি কিশোর গ্যাংয়ের উপদ্রব ও ছিনতাইয়ের ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা জানান, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে পিডিবি কিশোরঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আব্দুর রউফ দাবি করেন, মুক্তমঞ্চের দোকানগুলোতে দেওয়া বিদ্যুৎ সংযোগ বৈধ। তবে জেলা পরিষদ প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে পিডিবিকে বলা হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিদ্যুৎ অফিসের কোনো স্বার্থ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।"
কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, "দীর্ঘদিনের অনিয়মের কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক নাম ভাঙিয়ে এসব অপকর্ম চলছে। মুক্তমঞ্চের বিশৃঙ্খলা রোধে আমরা কাজ করছি।"
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মুক্তমঞ্চের এই স্থাপনাগুলো সম্পূর্ণ অবৈধ। নতুন করে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার পূর্বে ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের জন্য তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা হবে।
এআইএল/সকালবেলা