বাড়িতে বাবার লাশ রেখে পরীক্ষাকেন্দ্রে আয়েশা
উপজেলা প্রতিনিধি, পত্নীতলা (নওগাঁ): বাবার লাশ বাড়িতে রেখেই এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন আয়েশা সিদ্দিকা মৌ নামের এক অদম্য শিক্ষার্থী। যে বাবার হাত ধরে প্রথম বিদ্যালয়ে পা রাখা, প্রতিটি পরীক্ষার আগে যাঁর দুশ্চিন্তার শেষ থাকত না—সেই বাবাকে হারিয়েই বুধবার পরীক্ষার কেন্দ্রে যেতে হয়েছে তাঁকে।
জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফুসফুসের জটিলতায় মারা যান আয়েশার বাবা। বুধবার সকাল ১০টায় ছিল আয়েশার এইচএসসি পরীক্ষার জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা। স্বজনদের উৎসাহ ও মানসিক শক্তিতে বাবার লাশ বাড়িতে রেখে নজিপুর মহিলা কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি।
পরীক্ষা কেন্দ্রে এক হাতে চোখের জল মুছে অন্য হাতে খাতায় লিখতে দেখা যায় শোকাহত আয়েশাকে। পরীক্ষা শেষে কেন্দ্র থেকে বের হতেই তাঁর কান্না ও আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। পরে সহপাঠীরা তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে ভ্যানগাড়িতে করে বাসায় পৌঁছে দেন।
আয়েশা সিদ্দিকা নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী। তাঁর বাবা মিজানুর রহমান ধামইরহাট উপজেলার গাংরা ইসলামিয়া বালিকা আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তাঁরা নজিপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ঈদগাহ পাড়ায় বসবাস করতেন। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় ধামইরহাট উপজেলার মঙ্গলবাড়ীতে তাঁর বাবার দাফন সম্পন্ন হয়।
আয়েশার সহপাঠীরা জানান, "বটবৃক্ষসম বাবাকে চিরতরে হারিয়ে মৌ আজ দিশেহারা। আমরা শুধু তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছি। পরীক্ষা শেষে বাড়ি গিয়েও তিনি আর বাবাকে দেখতে পাবেন না—এই শোক সহ্য করা কঠিন।"
নজিপুর মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব মিজানুর রহমান বলেন, "পরীক্ষার্থী আয়েশা সিদ্দিকার বাবার মৃত্যুর বিষয়টি আমরা অবগত ছিলাম। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বোচ্চ মানসিকভাবে সাপোর্ট ও উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।"
এআইএল/সকালবেলা