সুরা ইনফিতারে কিয়ামত দিবস সম্পর্কে যা বলা হয়েছে
সূরা ইনফিতারে কিয়ামতের যে ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে, তা মানুষের বিবেককে নাড়িয়ে দেওয়ার মতো। আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেন
কিয়ামতের দিন আকাশমণ্ডল বিদীর্ণ হয়ে যাবে। আকাশের নক্ষত্ররাজি বিক্ষিপ্ত হয়ে ঝরে পড়বে।সমুদ্রের পানি উত্তাল ও প্রলয়ঙ্করী গর্জন শুরু হবে। কবর থেকে হাড়গোরসহ মানুষ পুনরুত্থিত হয়ে আল্লাহর সামনে দণ্ডায়মান হবে।
হিসাব-নিকাশের পর মানুষ মূলত দুটি দলে বিভক্ত হবে। যারা পৃথিবীতে ঈমান ও নেক আমলের পথে চলেছে, তারা প্রবেশ করবে জান্নাতের অনন্ত সুখের ঠিকানায়। আর যারা ছিল কাফের ও পাপাচারী, তাদের স্থান হবে জাহান্নামের কঠোর শাস্তিতে।
সূরাটিতে ‘ইয়াওমুদ-দীন’ বা বিচার দিবসের ভিন্ন একটি পরিচয় পাওয়া যায়। সেদিন সমস্ত হিসাব-নিকাশ শেষে মানুষের চিরস্থায়ী গন্তব্য নির্ধারিত হবে। বিচার দিবসের দিন একমাত্র মহান আল্লাহর নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব ও মালিকানা কার্যকর থাকবে। সেদিন আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোনো সৃষ্টিই কথা বলার বা সুপারিশ করার সাহস পাবে না।
সূরার শেষ অংশে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বলা হয়েছে যে, শেষ বিচারের দিনে পার্থিব জগতের কোনো বন্ধুত্ব, আত্মীয়তা বা বংশীয় পরিচয় কোনো কাজে আসবে না। জালিমরা সেদিন আল্লাহর আজাব থেকে বাঁচার জন্য কোনো আশ্রয় বা সাহায্যকারী খুঁজে পাবে না। প্রতিটি কর্মের প্রতিফল সেদিন স্বয়ং আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছায় ও নির্দেশে নির্ধারিত হবে।
সূরা ইনফিতার আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী এবং পরকালের হিসাবই চূড়ান্ত। কিয়ামত দিবসের এই ভয়াবহতা ও আল্লাহর বিচারের অমোঘ বাস্তবতাকে সামনে রেখে ঈমানদারদের সঠিক পথে চলা আবশ্যক।
জান্নাত সকালবেলা
|