হজের প্রতিবিধান ও কাফফারা

প্রকাশ: বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ
হজের প্রতিবিধান ও কাফফারা

হজ ও ওমরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলেও দীর্ঘ এই সফরে অসাবধানতাবশত কিছু ভুল হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এই ভুলগুলো সংশোধন করে ইবাদতকে ত্রুটিমুক্ত করার জন্য মহান আল্লাহ 'কাফফারা' বা 'দম'-এর বিধান রেখেছেন। ভুলের মাত্রাভেদে জরিমানা সাধারণত চার ধরনের হয়: সদকা, দম, বাদানা এবং বিশেষ ক্ষেত্রে পুনরায় হজ পালন।

পুরুষরা ১২ ঘণ্টার বেশি সেলাই করা কাপড় পরলে বা মাথা/মুখ ঢেকে রাখলে 'দম' (একটি ছাগল বা দুম্বা কোরবানি) দিতে হবে। এর কম সময়ের জন্য 'সদকা' দিলেই হবে। শরীরে বা কাপড়ের বড় অংশে সুগন্ধি লাগালে 'দম' দিতে হবে। সামান্য অংশে বা সুগন্ধিযুক্ত সাবান ব্যবহার করলে 'সদকা' ওয়াজিব হয়। ঘ্রাণহীন তেল শুধু ওষুধি কাজে ব্যবহার করলে জরিমানা নেই। চারটির বেশি চুল কাটলে সদকা এবং এক হাতের সব নখ কাটলে 'দম' দিতে হবে। ওমরাহর তাওয়াফ অপবিত্র অবস্থায় করলে 'দম' এবং হজের ফরজ তাওয়াফ (তাওয়াফে জিয়ারত) অপবিত্র অবস্থায় করলে 'বাদানা' (একটি গরু বা উট কোরবানি) দিতে হবে। সক্ষম হয়েও কঙ্কর না মারলে বা হজের কাজের নির্দিষ্ট ক্রম (যেমন: কোরবানির আগে চুল কাটা) লঙ্ঘন করলে 'দম' ওয়াজিব হয়। আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের পর কিন্তু হালাল হওয়ার আগে এমনটা ঘটলে স্বামী-স্ত্রী উভয়কে একটি করে গরু বা উট জরিমানা দিতে হবে। আরাফাতের আগে হলে হজ বাতিল হয়ে যাবে এবং পরে কাজা করতে হবে এগুলো অবশ্যই হারামের সীমানার ভেতরে জবাই করতে হবে এবং এর গোশত কেবল হারামের গরিবদের হক। দাতা বা তার পরিবার এই গোশত খেতে পারবে না। এক ফিতরা পরিমাণ অর্থ বা খাদ্য দান করা। এটি নিজ দেশে বা যেকোনো স্থানে দিলেও আদায় হয়ে যাবে।

অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য গুনাহ না হলেও জরিমানা দিতে হবে। অসুস্থতা বা বিশেষ ওজরের কারণে ভুল হলে দমের পরিবর্তে তিনটি রোজা রাখা বা ছয়জন মিসকিনকে খাওয়ানোর বিকল্প সুযোগ রয়েছে। হজের প্রতিটি আমল সঠিকভাবে পালন করতে আলেমদের পরামর্শ নেওয়া এবং ভুল হয়ে গেলে তা দ্রুত সংশোধনের চেষ্টা করা প্রত্যেক হাজির দায়িত্ব।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন