আসিয়ানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে বাংলাদেশ: ম্যানিলায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী
জাতীয় প্রধান: উদীয়মান ও আন্তঃদেশীয় নানামুখী নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করতে আসিয়ান (ASEAN) এবং এর অংশীদার রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশের অনড় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সংক্রান্ত তথ্যাদি জানানো হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমানে ৩৩তম আসিয়ান রিজিওনাল ফোরাম (এআরএফ) পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক এবং টিএসি-র ৫০তম বার্ষিকী উদযাপনে ম্যানিলা সফরে রয়েছেন।
ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় ঐতিহাসিক দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মৈত্রী ও সহযোগিতা চুক্তির (ট্রিটি অব অ্যামিটি অ্যান্ড কো-অপারেশন—টিএসি) ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ স্মারক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, "বর্তমান বিশ্বের মহামারি, চরম জলবায়ুজনিত অভিঘাত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সাইবার হামলা এবং পণ্য সরবরাহ শৃঙ্খলের (সাপ্লাই চেইন) আকস্মিক বিঘ্ন মোকাবিলায় বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক সক্ষমতা জোরদারে অতি বাস্তবভিত্তিক ও সমন্বিত কৌশল গ্রহণ করা প্রয়োজন।"
ড. খলিলুর রহমান আরও উল্লেখ করেন, "যৌথ আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, অভিন্ন আঞ্চলিক ঝুঁকি মূল্যায়ন কাঠামো এবং জরুরি সংকট মোকাবিলা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হলে যেকোনো অপ্রতিরোধ্য চ্যালেঞ্জের বিরুদ্ধে আমাদের সম্মিলিত প্রস্তুতি ও প্রতিরোধ সক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যাবে।"
বক্তব্যের একপর্যায়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর সাইবার অপরাধ বৃদ্ধি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ভ্রান্ত, অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো রুখে দেওয়ার কার্যকরী কৌশলগত উপায়সমূহ বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরেন।
উল্লেখ্য, পাঁচ দশক পূর্বে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক টিএসি চুক্তিতে মূলত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের দেশগুলোর পারস্পরিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পরিচালনার মৌলিক নীতিমালা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর প্রধান ভিত্তির মধ্যে রয়েছে প্রতিটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ প্রদর্শন এবং একে অপরের অভ্যন্তরীণ সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি। বাংলাদেশ ২০০৭ সালে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় টিএসি-তে যোগ দেয় এবং এর মাধ্যমে আসিয়ানের নীতিভিত্তিক ব্যবস্থার সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক অঙ্গীকারে আবদ্ধ হওয়া দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম পথিকৃত দেশে পরিণত হয়।
ম্যানিলায় টিএসির ৫০তম বার্ষিকীর আন্তর্জাতিক এই অনুষ্ঠানের ফাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান চিলি, নেদারল্যান্ডস ও ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথক পৃথক দ্বিপক্ষীয় সৌজন্য বৈঠকে মিলিত হন।
উচ্চপর্যায়ের এসব দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে পারস্পরিক দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ, নদী ও পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, প্রবাসী কর্মীদের বৈধ অভিবাসন এবং আধুনিক সার্কুলার ইকোনমিসহ বহুমাত্রিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ মতবিনিময় করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
|