জুলাই জাদুঘর থেকে হেফাজত নেতাদের ভাস্কর্য অপসারণের দাবি

প্রকাশ: সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১৬ অপরাহ্ণ
জুলাই জাদুঘর থেকে হেফাজত নেতাদের ভাস্কর্য অপসারণের দাবি

অনলাইন ডেস্ক: ব্যক্তি, সংগঠন কিংবা ইসলামি দলের নেতাকর্মী—পরিচয় যা-ই হোক না কেন, শরিয়া অনুযায়ী কোনো ধরনের ভাস্কর্য নির্মাণই বৈধ নয় বলে মন্তব্য করেছেন কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদের সভাপতি ও হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী (পীর সাহেব দেওনা)।

সোমবার (১০ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি জুলাই জাদুঘরে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের নামে বা অবয়বে উপস্থাপিত ভাস্কর্য অবিলম্বে অপসারণের দাবি জানান।

বিবৃতিতে পীর সাহেব দেওনা বলেন, "কোনো ব্যক্তির মর্যাদা, অবদান কিংবা রাজনৈতিক-সাংগঠনিক পরিচয়ের কারণে শরিয়তের মৌলিক বিধান পরিবর্তিত হতে পারে না। জুলাই জাদুঘরে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের অবয়বে ভাস্কর্য স্থাপন অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত। যারা ইসলামি মূল্যবোধ ও শরিয়ার পক্ষে কাজ করেন, তাঁদের স্মৃতি সংরক্ষণের নামে এমন কিছু করা অনুচিত, যা ইসলামি বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।"

তিনি বলেন, স্বৈরাচারী আমলে ভাস্কর্যবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে উলামায়ে কেরাম কারাবরণ করেছেন এবং শাহাদাতবরণ করেছেন। অথচ সেই আলেমদেরই ভাস্কর্য নির্মাণ করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সাহাবায়ে কেরামের কোনো ভাস্কর্য ছিল না, তবুও তাঁদের অবদান ইতিহাসে অমর হয়ে আছে।

শহীদ ও আন্দোলনকারীদের স্মৃতি সংরক্ষণে ভাস্কর্যের বিকল্প প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, তথ্যচিত্র, আলোকচিত্র, লিখিত ইতিহাস, দলিলপত্র ও জাদুঘরভিত্তিক প্রদর্শনীর মাধ্যমে শরিয়াসম্মত পদ্ধতিতে ইতিহাস সংরক্ষণ করা সম্ভব। এতে ঐতিহাসিক সত্য অক্ষুণ্ন থাকার পাশাপাশি ধর্মীয় মূল্যবোধও বজায় থাকবে।

বিবৃতিতে তিনি জুলাই জাদুঘর থেকে হেফাজত নেতাকর্মীদের ভাস্কর্য অপসারণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোনো আলেম বা ইসলামি ব্যক্তিত্বের ভাস্কর্য তৈরি না করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শাপলা চত্বরের আন্দোলনে শহীদদের ইতিহাস পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান তিনি।

এআইএল/সকালবেলা


মন্তব্য করুন