ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
মানজুরুল ইসলাম, লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনায় অবস্থিত ঐতিহাসিক কাকিনা জমিদার বাড়ি এখন কেবলই ধ্বংসস্তূপ। একসময়ের ঐশ্বর্য, শিক্ষা ও সংস্কৃতির কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই রাজবাড়িটি যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও সরকারি নজরদারির অভাবে ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
লালমনিরহাট জেলা জাদুঘরের পরিচালক ড. আশরাফুজ্জামান মন্ডল জানান, কাকিনা উত্তরবঙ্গের এক প্রাচীন জনপদ। মোগল আমলে সম্রাটের সনদের মাধ্যমে এখানে জমিদারি প্রতিষ্ঠিত হয়। কাশীনাথ রায়, মহিমা রঞ্জন রায় ও শম্ভুচরণ রায়ের মতো প্রভাবশালী জমিদারদের হাত ধরে এ অঞ্চল একসময় উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল।
স্থানীয় কলেজ শিক্ষক ও কবি নুরুল আমিনের ভাষ্যমতে, ইউরোপীয় নকশা ও মোগল অলংকরণের সমন্বয়ে নির্মিত এই প্রাসাদের স্থাপত্যশৈলী ছিল দেখার মতো। প্রাসাদের রাজদরবার, অতিথিশালা, হাওয়া খানা ও গোপন পথগুলো আজও অতীতের সমৃদ্ধির পরিচয় দেয়। ১৯২৫ সালের দিকে আর্থিক সংকটে জমিদারি নিলামে উঠে যায় এবং দেশভাগের পর জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হলে এটি দ্রুত জৌলুস হারাতে থাকে।
জমিদার মহিমা রঞ্জন রায় চৌধুরী কেবল শাসকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন বড় মাপের সমাজসংস্কারক। তাঁর হাত ধরেই বর্তমান ‘কৈলাশ রঞ্জন উচ্চ বিদ্যালয়’ ও রংপুর সাহিত্য পরিষদ প্রতিষ্ঠিত হয়। এমনকি তিস্তা, মহেন্দ্রনগর, লালমনিরহাট ও কাকিনা রেলস্টেশন গড়ে ওঠার নেপথ্যেও ছিল তাঁর অসামান্য অবদান।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজবাড়ির ছাদ ধসে পড়েছে, দেওয়ালে দেখা দিয়েছে বিশাল ফাটল। প্রাসাদের কেন্দ্রস্থলে বর্তমানে উত্তর বাংলা কলেজ গড়ে উঠলেও মূল স্থাপনাগুলো সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে আছে। কাচারি ঘর ও হাওয়া খানা কোনোমতে অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে।
উত্তর বাংলা কলেজের অধ্যক্ষ আবদুর রউফ সরকার এবং স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটি সরকারি উদ্যোগে সংস্কার ও সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগের ফিল্ড অফিসার আবু সাঈদ ইনাম তানভিরুল জানান, বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে এবং শিগগিরই পরিদর্শন করে এটিকে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ.আই.এল/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ