ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
সময়ের ধুলোবালিতে অনেক সাম্রাজ্য বিলীন হলেও কিছু স্থাপত্য আর সংস্কৃতি আজও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মিশরের পিরামিড থেকে শুরু করে আমাদের সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ—এই অমূল্য সম্পদগুলো আমাদের পরিচয় করিয়ে দেয় আমাদের শেকড়ের সাথে। সেই শেকড়কে আগলে রাখার অঙ্গীকার নিয়ে আজ ১৮ এপ্রিল বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব ঐতিহ্য দিবস’।
ঐতিহ্য কেবল ইট-পাথরের দালান নয়, এটি মানব সভ্যতার বিবর্তনের এক জীবন্ত দলিল। ইউনেস্কোর তালিকায় থাকা সাংস্কৃতিক ও প্রাকৃতিক স্থানগুলো আমাদের অতীতের সোনালী দিনগুলোর জানান দেয়। বাংলাদেশের ষাট গম্বুজ মসজিদ কিংবা পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার কেবল প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নয়, এগুলো এই জনপদের আত্মপরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই দিবসটি আমাদের সেই বোধকেই নতুন করে জাগিয়ে তোলে, যাতে আমরা আমাদের পরিচয়কে অবহেলার অন্ধকারে হারিয়ে যেতে না দিই।
আধুনিক বিশ্বে ঐতিহ্যের ওপর হুমকির মাত্রা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ন, পর্যটন এবং জলবায়ু পরিবর্তন প্রাচীন নিদর্শনগুলোর অস্তিত্ব সংকটে ফেলছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি অনেক উপকূলীয় প্রাচীন শহরকে গ্রাস করছে, আবার বায়ুদূষণের কারণে ম্লান হচ্ছে স্থাপত্যের উজ্জ্বলতা। বিশ্ব ঐতিহ্য দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, এই অমূল্য সম্পদগুলো একবার হারিয়ে গেলে কোনো প্রযুক্তি দিয়েই আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।
একটি জাতির গর্ব তার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। ঐতিহ্য রক্ষা করা মানেই হলো নিজের অস্তিত্বকে সম্মান করা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কেবল আধুনিক অট্টালিকা নয়, বরং তাদের হাতে এমন এক পৃথিবী তুলে দিতে হবে যেখানে তারা তাদের পূর্বপুরুষদের গৌরব দেখে বড় হতে পারে। মহাকালের স্রোতে আমাদের বীরত্বগাঁথাগুলো অম্লান রাখতে প্রতিটি ঐতিহাসিক নিদর্শনকে পরম মমতায় আগলে রাখার শপথ নেওয়ার দিন আজ।
জান্নাত/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ