ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: যুদ্ধবিরতির ফলে হরমুজ প্রণালী আবারও উন্মুক্ত হয়েছে। ধীরে ধীরে তেলের জাহাজ চলাচল শুরু হলেও বাংলাদেশে জ্বালানি সংকট এখনো কাটেনি। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পেট্রল ও ডিজেলের তীব্র সংকট চলছে। এতে অনেক পেট্রল পাম্প আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
রোকেয়া সরণির বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন হাসান ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মোহাম্মদ সুজন মিয়া বলেন, সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা পাইনি। তবে প্রতিদিনের মতো আজও এক গাড়ি তেল এসেছে। যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে, তবে এতে সময় লাগবে। কল্যাণপুর থেকে তেল নিতে আসা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, এ পাম্পে নিয়মিত তেল পাওয়া যায়, তাই সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে আছি। শুনেছি যুদ্ধবিরতির কারণে সরবরাহ আসছে, তবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে।
সনি সিনেমা হল সংলগ্ন স্যাম অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড পেট্রল পাম্পের হেড অব অ্যাডমিন আবদুল মমিন রিপন বলেন, যুদ্ধবিরতির প্রভাব এখনো আমাদের ওপর সরাসরি পড়েনি। আগের মতোই প্রতিদিন প্রায় ৯ হাজার লিটার পেট্রল ও ৯ হাজার অকটেন পাচ্ছি। তবে গ্রাহকের চাপ এখনো অনেক বেশি। তিনি আরও জানান, মোটরসাইকেলে ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে, তবে চাপ বেশি থাকলে তা কমিয়ে ৩০০ টাকায় নামিয়ে আনা হয়। প্রাইভেটকারে সাধারণত ১০ লিটার, বিশেষ ক্ষেত্রে ১৫ থেকে ২০ লিটার পর্যন্ত তেল দেওয়া হচ্ছে। মিরপুরসহ আশপাশের অনেক এলাকার মানুষ এখানে তেল নিতে আসেন। আমরা সকাল থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি সবাইকে তেল দেওয়ার জন্য।
রাজধানীর মিরপুরের রোকেয়া সরণিতে দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে মোটর পার্টসের ব্যবসা করে আসছেন হাজী মোহাম্মদ মানিক মিয়া। তিনি বলেন, চলমান জ্বালানি সংকট ও যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে আমাদের ব্যবসায় মারাত্মক ধস নেমেছে। এর আগে কখনো এত বড় ক্ষতির মুখে পড়িনি। তেল না থাকায় গাড়ি চলে না, আর গাড়ি না চললে পণ্য পরিবহনও বন্ধ হয়ে যায়। আগে যেখানে প্রতিদিন ১০-১৫ হাজার টাকা বেচাকেনা হতো, এখন সারাদিনে মাত্র ২০০০ টাকার বিক্রি করতে জান বের হয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে যাবে। দোকান ভাড়া, কর্মচারীদের বেতন সবকিছু মেটানো দুষ্কর হয়ে পড়ছে। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ সংকট মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আমাদের মতো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের রাস্তায় নামা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।
জ্বালানি সংকটের এ প্রভাব শুধু পরিবহন খাতেই নয়, ক্ষুদ্র ব্যবসা-বাণিজ্যেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ। যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ বাড়বে এবং ধীরে ধীরে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতিও স্বাভাবিক হতে পারে। তবে পুরোপুরি স্বস্তি পেতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে।
আই.এ/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ