ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রায় ৪০ দিন ধরে যুদ্ধ চলার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে দুই পক্ষ। তবে এই পরিস্থিতিতে ইরান মাথা নত করেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে দুর্বল ভেবে যে হিসাব কষেছিলেন, তা এখন উল্টে গেছে। শেষমেশ ইরানের ১০ দফায় সম্মত হয়েই তাকে পিছু হটতে হয়েছে।
ট্রাম্প একসময় ইরানিদের বলেছিলেন, তাদের সরকার ‘তাদের নিজেদের দখলে নেওয়ার জন্য’। এখন সেই একই মানুষকে হুমকি দিচ্ছেন ইরানকে ‘পাথর যুগে ফিরিয়ে দেওয়ার’। হরমুজ প্রণালিতে হাজার হাজার মেরিন সেনা পাঠিয়েও লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে মার্কিন নৌবহর নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করছে এবং ইরান নিজেই ঠিক করছে কোন জাহাজ যাবে আর কোনটি যাবে না। প্রতিটি জাহাজকে এখন ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত চাইনিজ ইউয়ানে টোল দিতে হচ্ছে।
ইসরায়েলি সেনাপ্রধান এয়াল জামির এক মাস আগে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি করলেও বর্তমানে মার্কিন যুদ্ধবিমান নিয়মিত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ১৩ হাজারেরও বেশি বিমান হামলার পরও ইরানের কমান্ড ব্যবস্থা অটুট রয়েছে। ইরাক, সিরিয়া বা লিবিয়ার মতো ইরান ভেঙে পড়েনি। মোসাদ ও সিআইএর একের পর এক হত্যাকাণ্ডের পরেও ইরানের প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে।
এই যুদ্ধের প্রভাব শুধু ইরানে সীমাবদ্ধ নেই। সিরিয়ার দামেস্ক, আলেপ্পো, হোমস ও ইদলিবে বড় ধরনের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। জর্ডানেও বাড়ছে ক্ষোভ। মিশরীয় বিশ্লেষক মামুন ফান্দি বলেছেন, ইসরায়েল আবার আরবদের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে এবং আব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমে শান্তির ধারণা এখন ফিকে হয়ে গেছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় ইউরোপে ডিজেলের দাম ৩০ শতাংশ বেড়েছে। ট্রাম্পের হামলা ইরানকে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের নিয়ন্ত্রণ নামক এক কার্যকর অস্ত্র তুলে দিয়েছে।
উপসাগরীয় দেশগুলো ট্রাম্পকে ইরান আক্রমণে নিরুৎসাহিত করলেও তাদের তেল ও গ্যাস শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ট্রাম্প ‘বিজয়’ ঘোষণা করে চলে গেলেও ইরান হরমুজের নিয়ন্ত্রণ ছাড়বে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। নেতানিয়াহুর ইরান আক্রমণের স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত আরব ও ইরানিদের এক কাতারে এনে দিয়েছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
আই.এ/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ