শ্রীপুরে শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশিক্ষণের অর্থ লুটের অভিযোগ

শ্রীপুরে শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশিক্ষণের অর্থ লুটের অভিযোগ

মহিউদ্দিন আহমেদ, বিশেষ প্রতিবেদক: গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাব-ক্লাস্টার প্রশিক্ষণের বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফাতেমা নাসরিনের বিরুদ্ধে। প্রশিক্ষণার্থীদের ভাতার বড় অংশ ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে তছরুপ করে প্রতি বছর লাখ লাখ টাকা লুটে নেওয়া হচ্ছে বলে ভুক্তভোগী শিক্ষকরা দাবি করেছেন।

প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪)–এর আওতায় কন্টিনিউয়াস প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট কার্যক্রমের অধীনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শ্রীপুর উপজেলায় সাব-ক্লাস্টার প্রশিক্ষণের জন্য প্রায় ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। উপজেলার সাতটি ক্লাস্টারের প্রায় ১ হাজার ৩২৯ জন শিক্ষকের জন্য এই প্রশিক্ষণ আয়োজিত হয়। নিয়ম অনুযায়ী অংশগ্রহণকারী শিক্ষকদের মানসম্মত খাবার ও শিক্ষা উপকরণ দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে দেওয়া হচ্ছে অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, প্রতি প্রশিক্ষণার্থীর জন্য ৫৪০ টাকা এবং শিক্ষা উপকরণ বাবদ ৪৫ টাকা বরাদ্দ থাকলেও তাদের হাতে পৌঁছাচ্ছে নামমাত্র অর্থ।

  • ২ নং গাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কোহিনুর বেগম জানান, তিনি প্রতি প্রশিক্ষণার্থীর জন্য ৪০০ টাকা পেয়েছেন।

  • অন্যদিকে তেলিহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেলায়েত হোসেন বলেন, তারা পেয়েছেন মাত্র ২০০ টাকা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ৩০ টাকার শিক্ষা উপকরণের বদলে শিক্ষকদের মাত্র ৬ টাকার সামগ্রী দিয়ে বাকি টাকা পকেটস্থ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এমনকি প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষকদের কাছ থেকে পূর্ণ অর্থ গ্রহণের স্বীকারোক্তিমূলক স্বাক্ষর জোরপূর্বক নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

 সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনির হোসেন ভ্যাট ও আয়কর কর্তনের অজুহাত দিলেও এর সপক্ষে কোনো দালিলিক প্রমাণ দেখাতে পারেননি। প্রধান অভিযুক্ত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা নাসরিন অনিয়মের দায় এড়িয়ে বলেন, “বরাদ্দের অর্থ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে। কোথাও অনিয়ম হয়েছে কি না, তা আমার জানা নেই।”

হয়রানির ভয়ে শিক্ষকরা মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। তবে এই প্রশিক্ষণ ভাতার লুটপাট বন্ধে এবং প্রকৃত বরাদ্দ নিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শ্রীপুরের শিক্ষক সমাজ।

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন