ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
মোঃ ইমরান মাহমুদ, জামালপুর: সন্ধ্যা নামার আগেই জামালপুর শহরের শহীদ হিরু সড়ক মোড় এলাকায় তৈরি হয় এক অন্যরকম পরিবেশ। ফুটপাতে সারিবদ্ধভাবে বসে আছেন নানা বয়সী রিকশাচালক, দিনমজুর, ভিক্ষুক ও ছিন্নমূল মানুষ। তাদের সামনে থালায় সাজানো ডিম-খিচুড়ি, খেজুর, জিলাপি ও মুড়ি। ‘ইউনাইটেড সোসাইটি ক্লাব জামালপুর’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে টানা চার বছর ধরে চলছে এই ইফতারের আয়োজন।
২০১৮ সালে ফারুক হোসেনের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনটি ২০২২ সাল থেকে নিয়মিত ইফতারি বিতরণের এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বর্তমানে ৫০ জন সদস্য ও ১৬ জন উপদেষ্টার ব্যক্তিগত সহযোগিতায় প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০ জনের ইফতারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শুধু ডিম-খিচুড়ি নয়, প্রতিদিনের মেনুতে থাকে ভিন্নতা; কোনোদিন সবজি-খিচুড়ি আবার কোনোদিন ফল ও অন্যান্য মুখরোচক ইফতার সামগ্রী।
ইফতার করতে আসা ভ্যানচালক মুহাম্মদ আজগর আলী আবেগপ্লুত হয়ে বলেন, “পয়সা ছাড়া এই জামানায় ইফতার পাওয়া কল্পনার মতো। এখানে না আসলে বিশ্বাসই করতে পারতাম না যে ফ্রিতে এত ভালো খাবার দেওয়া হয়।” মেলান্দহ থেকে আসা ইজিবাইক চালক বুলবুল মিয়া বলেন, “ইফতারির মান খুব ভালো। পেট ভরে খিচুড়ি আর ফল খাইছি।”
ইফতার আয়োজন ছাড়াও ‘ইউনাইটেড সোসাইটি ক্লাব’ সারা বছর ধরে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
বানভাসি মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ।
মুমূর্ষু রোগীকে রক্তদান।
এতিম শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার খরচ জোগানো।
শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ।
ইউনাইটেড সোসাইটি ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন বলেন:
“আমরা আমাদের সংগঠনের সদস্যদের নিজেদের অর্থায়নে এই আয়োজন করে আসছি। আমাদের এই উদ্যোগ দেখে অনেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আর্থিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসেন। আমাদের লক্ষ্য হলো, একজন মানুষও যেন অনাহারে ইফতার না করে।”
রমজানে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির এই সময়ে সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসলে ছিন্নমূল মানুষের এই কষ্ট অনেকটা লাঘব হবে বলে মনে করেন আয়োজকরা।
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ