সৌদি আরবে সিআইএ স্টেশনে ইরানের ড্রোন হামলা: মার্কিন দূতাবাসে আতঙ্ক

সৌদি আরবে সিআইএ স্টেশনে ইরানের ড্রোন হামলা: মার্কিন দূতাবাসে আতঙ্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস প্রাঙ্গণে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২ মার্চ) দিবাগত গভীর রাতে এই হামলা চালানো হয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এই হামলায় দূতাবাসের ভেতরে অবস্থিত মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ (CIA)-এর একটি স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দূতাবাসের চ্যান্সারি এলাকায় দুটি ড্রোন আঘাত হানে। এতে ভবনের ছাদে বড় ধরনের গর্তের সৃষ্টি হয় এবং ভেতরে ধোঁয়ায় ভরে যায়। হামলায় দূতাবাস ভবনের কাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে এবং একটি ছোটখাটো অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। তবে মার্কিন ও সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই হামলায় দূতাবাসের কোনো কর্মকর্তা বা সিআইএ কর্মী হতাহত হননি। সিআইএ স্টেশনটি দূতাবাসের উপরের তলায় অবস্থিত ছিল, যা এই অঞ্চলের অন্যতম বৃহত্তম গোয়েন্দা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) থেকে ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা নজিরবিহীন সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় তেহরান এই হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চলমান এই সংঘাতে ইতোমধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীসহ শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক ও সামরিক নেতা নিহত হয়েছেন। এর প্রতিশোধ হিসেবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ব্যাহিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রেখেছে।

হামলার পর রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন মিশন এক জরুরি নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মার্কিন নাগরিকদের দূতাবাস এলাকা এড়িয়ে চলার এবং ‘শেল্টার-ইন-প্লেস’ (নিরাপদ স্থানে অবস্থান) করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সৌদি আরবের ধাহরান ও জেদ্দায় অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটগুলোতেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আসন্ন হুমকির বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। বর্তমানে রিয়াদ, কুয়েত ও লেবাননে মার্কিন দূতাবাসগুলো নিরাপত্তার স্বার্থে বন্ধ রাখা হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলার পর ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, "খুব শীঘ্রই আপনারা জানতে পারবেন এর প্রতিক্রিয়া কী হবে।" এদিকে সৌদি আরব এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি আন্তর্জাতিক রীতিনীতির লঙ্ঘন এবং তারা নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার রাখে।

এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন