“গাজা পুনর্গঠনের ছলে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ চলমান”

“গাজা পুনর্গঠনের ছলে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ চলমান”

ধ্বংসস্তূপে পরিণত গাজা পুনর্গঠনে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও ইসরায়েলি বাধার মুখে ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করার কৌশল নিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ, বলছেন বিশ্লেষকরা। ছবি: রয়টার্স

গাজা পুনর্গঠনের নামে নতুন এক ‘নীরব স্থানান্তর’ কৌশল চালু করার অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে। বিশ্লেষক ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের মতে,যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনকে মানবিক সহায়তা নয়, বরং রাজনৈতিক ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

গত মাসে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার নতুন করে গাজা পুনর্গঠনের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। সেখানে আকাশচুম্বী ভবন ও পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার কথা বলা হলেও বাস্তবে গাজায় এখনো একটি ইটও বসেনি। বর্তমানে উপত্যকাটিতে জমে আছে প্রায় ৬ কোটি টন ধ্বংসস্তূপ। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ইসরায়েলি অভিযানে গাজার ৯০ শতাংশের বেশি এলাকা ধ্বংস হয়েছে এবং পুনর্গঠনে লাগবে অন্তত ৭০ বিলিয়ন ডলার।

অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পর বিমান হামলা কিছুটা কমলেও সহিংসতা থামেনি। একই সঙ্গে সিমেন্ট ও স্টিলের মতো প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রী প্রবেশে ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। গবেষক ইহাব জাবারিনের মতে, পুনর্গঠন এখন যুদ্ধেরই আরেক রূপ, যেখানে গাজায় সিমেন্টের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করে গাজার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, পুনর্গঠনকে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক শর্তের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। এতে গাজায় কোন প্রশাসন কাজ করবে এবং কারা বৈধতা পাবে, সেটিও ইসরায়েল নির্ধারণ করতে চায়। সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার, বাসস্থানকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণের নামে সাধারণ মানুষের আওতাবহির্ভূত করা হচ্ছে।

জাতিসংঘ বলছে, শুধু ধ্বংসস্তূপ সরাতেই সাত বছর লাগতে পারে। এত দীর্ঘ অপেক্ষায় ক্লান্ত ফিলিস্তিনি গাজাবাসী গাজা ছেড়ে চলে যাবে, এটাই ইসরায়েলি কৌশল। বিশ্লেষকদের ভাষায়, সরাসরি হামলার বদলে সময় ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকে অস্ত্র বানিয়েই এগোচ্ছে নীরব স্থানান্তর।
 
আইএ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন