ইসমাঈল আযহার
প্রকাশ : শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:০২ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

অকারণে হর্ন বাজানো সমাজের চরম বদভ্যাস: পরিবেশ উপদেষ্টা

অকারণে হর্ন বাজানো সমাজের চরম বদভ্যাস: পরিবেশ উপদেষ্টা

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে অকারণে হর্ন বাজানো বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, অকারণে হর্ন বাজানো আমাদের সমাজের একটি গভীর ও চরম বদভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এই অভ্যাস পরিবর্তনের জন্য শুধু কঠোর আইন যথেষ্ট নয়, মানুষের আচরণগত পরিবর্তনও জরুরি।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত এক বিশাল মোটর শোভাযাত্রার উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। পরিবেশ অধিদফতর ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) যৌথভাবে ‘শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারত্বমূলক প্রকল্প’-এর আওতায় এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান জানান, ‘শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০২৫’-এর গেজেট ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, পরিবেশ অধিদফতরের পাশাপাশি পুলিশকেও সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার আইনি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ফলে রাস্তায় দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যরা এখন থেকে শব্দদূষণকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারবেন। তিনি ঢাকার ঘোষিত নীরব এলাকাগুলোতে মনিটরিং জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।

তিনি আরও জানান, শব্দদূষণের দুটি প্রধান উৎস—হর্ন ও আতশবাজি—নিয়ন্ত্রণে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নববর্ষে আতশবাজি ফোটানোর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি। তরুণ সমাজ ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, স্বপ্রণোদিত হয়ে মানুষকে হর্ন না বাজানোর বার্তা ছড়িয়ে দিতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বধিরতার ঝুঁকি থেকে বাঁচাতে শব্দদূষণের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।

‘আর নয় শব্দদূষণ, জয় হোক সুস্থ জীবন’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে শোভাযাত্রাটি সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে শুরু হয়ে ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার ও বিজয় সরণি হয়ে আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদফতরে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় পরিবেশ অধিদফতর ও ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো. কামরুজ্জামান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. সারোয়ারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, গত ৫ জানুয়ারি থেকে ঢাকার ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পরিচালিত ১০ দিনব্যাপী মোবাইল কোর্ট ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম এই মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে সমাপ্ত হয়। তরুণ স্বেচ্ছাসেবকরাও পুরো কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেন।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ১২ ফেব্রুয়ারি

1

মুগদায় ভূমিকম্পে ছাদের রেলিং ধসে নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যু

2

গণঅভ্যুত্থানের পর আবারও গণতন্ত্র ধ্বংসের চক্রান্ত হচ্ছে: মির

3

মা-মেয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত সেই গৃহকর্মী গ্রেপ্তার

4

হাদির অস্ত্রোপচার সম্পন্ন, নেওয়া হচ্ছে এভারকেয়ারে

5

ভেনেজুয়েলায় শিগগিরই স্থল হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র

6

নির্বাচন সুষ্ঠু করতে দলগুলোকে কঠোরভাবে আচরণবিধি মানতে সিইসির

7

বিছানায় না গেলে নারী শিল্পীদের প্রোগ্রামে ডাকা হয় না : হাস

8

আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন হাসনাত কাইয়ুম ও শফিকুল, বহাল বিএ

9

জনগণের ভোটে ক্ষমতায় গেলে সবার অধিকার নিশ্চিত করবে বিএনপি: তা

10

যেভাবে দেখবেন হামজা-সোমিতদের ভারতের বিপক্ষে লড়াই

11

কমলগঞ্জে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৫টি এয়ারগান উদ্ধার করেছে র‍্যাব

12

শ্রীপুরে এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলনের শতাধিক নেতাকর্মীর বিএনপিত

13

মোটরসাইকেল থেকে ছোঁড়া গুলি লেগেছে হাদির কানের নিচে

14

খনিজ খাতে সৌদির নতুন সাফল্য, ৭.৮ মিলিয়ন আউন্স সোনা উত্তোলন

15

আনিস আলমগীরের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন

16

একসঙ্গে নির্বাচন ও গণভোট করলে খরচ বাড়বে: অর্থ উপদেষ্টা

17

গাজীপুরে ছাত্রলীগ-স্বেচ্ছাসেবক লীগের নাশকতার চেষ্টা, গ্রেপ্ত

18

এতিমদের দুম্বার মাংস লুটের অভিযোগ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদে

19

ব্যাংক বন্ধ আজ, নতুন নির্দেশনা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

20
সর্বশেষ সব খবর