বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু একজন রাজনৈতিক নেত্রী নন, তিনি ছিলেন একজন প্রকৃত রাষ্ট্রনায়ক। তার চিন্তা, কর্ম, দক্ষতা এবং সর্বোপরি মানুষের প্রতি ভালোবাসাই তাকে এই উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আইনজীবী অ্যাসোসিয়েশন ও বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশ আয়োজিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত কামনায় শোকসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ড. মঈন খান বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার বিশাল ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, উদার মানসিকতা ও দেশের মানুষের প্রতি তার অপরিসীম ভালোবাসার কথা বলতে গেলে দিনের পর দিনেও শেষ করা যাবে না। তার অবদান স্মরণ করলে অনেক সময় আমরা বাকরুদ্ধ হয়ে যাই।
নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৯০-এর গণআন্দোলনের পর স্বৈরশাসকের পতনের প্রেক্ষাপটে বেগম খালেদা জিয়া আপসহীন নেত্রী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালের নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়ে সে সময় সমালোচনা হলেও পরবর্তীতে তা সঠিক প্রমাণিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জনগণ তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করে।
তিনি বলেন, তিনবার মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও বেগম খালেদা জিয়া কোনো দিন তাকে নির্দিষ্ট কাজের নির্দেশ দেননি। পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছিলেন, যা তার গণতান্ত্রিক মানসিকতার প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
ড. মঈন খান আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে প্রায় ৪৭টি মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছিল। এসব মামলার বিষয়ে তিনি বলেছিলেন—অন্যায় করা যেতে পারে, কিন্তু তিনি আইনের বাইরে যেতে পারেন না। এতে তার আইনের প্রতি শ্রদ্ধা ও নৈতিক দৃঢ়তা স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
তিনি বলেন, এই কারণেই বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন প্রতিহিংসাহীন রাজনীতির প্রতীক এবং গণতন্ত্রের প্রকৃত চর্চাকারী একজন মহান রাষ্ট্রনায়ক।
শোকসভায় বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন