নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ: দীর্ঘদিন ধরে একচেটিয়া রাজনৈতিক ধারা ও পরিচিত মুখের রাজনীতিতে অভ্যস্ত গোপালগঞ্জে এবার ভিন্ন চিত্রের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ভোটারদের মধ্যে পুরোনো রাজনৈতিক ধারা নিয়ে আগ্রহ কমলেও নতুন মুখ ও নেতৃত্ব নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল বাড়ছে।
স্থানীয় বাজার, চায়ের দোকান ও গ্রাম্য আড্ডায় এখন প্রধান আলোচনার বিষয়—গোপালগঞ্জের রাজনীতিতে এবার কি কোনো পরিবর্তন আসবে? ভোটারদের একটি বড় অংশ বলছেন, বছরের পর বছর একই প্রতিশ্রুতি শুনে তারা ক্লান্ত, তাই এবার তারা বাস্তব সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম এমন নেতৃত্ব খুঁজছেন।
গোপালগঞ্জের এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের পালে সবচেয়ে বেশি হাওয়া দিচ্ছে তরুণ ভোটাররা। কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও আধুনিক সেবার দাবিতে তারা নতুন ধারার রাজনীতি দেখতে আগ্রহী। অনেক তরুণ ভোটার সরাসরিই বলছেন, তারা কেবল স্লোগান নয়, কাজের বাস্তবায়ন দেখতে চান। আওয়ামী লীগবিহীন এবারের নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের নতুন প্রার্থীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন। বড় বড় শোডাউন না থাকলেও ছোট পরিসরের উঠান বৈঠক ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের এই কৌশল সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হচ্ছে।
তবে স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, গোপালগঞ্জের দীর্ঘদিনের শক্ত রাজনৈতিক কাঠামো ও প্রভাব কাটিয়ে পরিবর্তন আনা সহজ নয়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ভোটারদের মধ্যে যে নীরব পরিবর্তনের সুর বাজছে, তা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। বিশেষ করে নতুন প্রার্থীদের হলফনামা এবং তাদের পরিকল্পনা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন সচেতন ভোটাররা। শেষ পর্যন্ত এই প্রত্যাশা ও নতুন মুখের প্রতি আগ্রহ ভোটের বাক্সে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে জেলার সর্বত্র চলছে তুমুল বিশ্লেষণ। সবার দৃষ্টি এখন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের দিকে, যেখানে নতুন নেতৃত্বের পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।
এম.এম/সকালবেলা
মন্তব্য করুন