ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার দুই আসামি সঞ্জয় চিসিম ও ফয়সাল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালতে তারা এই জবানবন্দি দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ তিন দিনের রিমান্ড শেষে আসামিদের আদালতে হাজির করেন। আসামিরা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করা হয়। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর সঞ্জয় ও ফয়সালের সঙ্গে আরেক আসামি সিবিউন দিউকেও কারাগারে পাঠানো হয়। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত ১৫ ডিসেম্বর বিজিবি সদস্যদের হাতে আটকের পর ১৮ ডিসেম্বর সঞ্জয় চিসিম ও সিবিউন দিউকে গ্রেফতার দেখানো হয়। দফায় দফায় রিমান্ড শেষে রিমান্ড শেষে সঞ্জয় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেন। আর সিবিউন দিউ রিমান্ডে রয়েছে। এর আগে ১৬ ডিসেম্বর র্যাব-১১ নরসিংদীর তরুয়া বিল থেকে মূল ঘাতক ফয়সালকে আটক করে। এ সময় পানির নিচ থেকে হাদি হত্যায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়। ফয়সালও বর্তমানে এই মামলায় রিমান্ডে রয়েছেন।
গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে প্রথমে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে হাদির মৃত্যুতে মামলায় ৩০২ (হত্যা) ধারা যুক্ত করা হয়। মামলায় এখন পর্যন্ত ফয়সাল ও তার পরিবারের সদস্যসহ মোট ১২ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। আসামিদের মধ্যে ফয়সালের বাবা, মা, স্ত্রী ও সহযোগীরাও রয়েছেন।
জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম পরিচিত মুখ শরিফ ওসমান বিন হাদি আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগের সময় তিনি দুর্বৃত্তদের গুলিতে মাথায় গুরুতর জখম হন।
প্রথমে ঢাকা মেডিকেল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়।
মন্তব্য করুন