ইমতিয়াজ মাহমুদ ইমন, চট্টগ্রাম: ২০২৫ সালে কর, ভ্যাট ও কর-বহির্ভূত আয় হিসেবে সরকারের কোষাগারে ১ হাজার ৮০৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা জমা দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৪১ শতাংশ বেশি। চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সেবার মান অক্ষুণ্ন রেখে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করার ফলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে অর্থ জমা দেওয়ার পরিমাণ প্রতি বছর বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ২০২৪ সালে বন্দর কর্তৃপক্ষ ১ হাজার ৭১১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা জমা দিয়েছিল। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২১ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত গত পাঁচ বছরে বন্দর কর্তৃপক্ষ সর্বমোট ৭ হাজার ৫৮০ কোটি ২০ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জোগান দিয়েছে।
রাজস্ব আয় ও প্রবৃদ্ধি উভয় ক্ষেত্রেই বন্দর কর্তৃপক্ষ বড় ধরনের সাফল্য দেখিয়েছে। ২০২১-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত বন্দরের রাজস্ব আয়ে গড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক ০৮ শতাংশ এবং রাজস্ব উদ্বৃত্তের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৮ দশমিক ৪২ শতাংশ।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে কর্তৃপক্ষের মোট রাজস্ব আয় হয়েছে ৫ হাজার ৪৬০ কোটি ১৮ লাখ টাকা, যার বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ৩১৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর ফলে বছরটিতে উদ্বৃত্ত রাজস্বের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১৪২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর ফলে গত দুই বছর ধরে রাজস্ব ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি এক অঙ্কের ঘরে রাখা সম্ভব হয়েছে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক অর্জনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
গত পাঁচ বছরে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া মোট অর্থের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ এসেছে কর (ট্যাক্স) বাবদ, যার পরিমাণ ৩ হাজার ৫৫৩ কোটি ৮ লাখ টাকা।
এ ছাড়া মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট হিসেবে ৩ হাজার ৪২৭ কোটি ১২ লাখ টাকা এবং কর-বহির্ভূত আয় (এনটিআর) হিসেবে ৬০০ কোটি টাকা জমা দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ২০২২ সালে ১ হাজার ৩৫৯ কোটি ৫৯ লাখ এবং ২০২৩ সালে ১ হাজার ৫১৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা জমা দিয়েছিল বন্দর কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম বন্দরের এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি ও রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বিশাল অঙ্কের অর্থ জোগান দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এম.এম/সকালবেলা
মন্তব্য করুন