তুরস্কের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) একটি আস্তানায় অভিযানকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে তিন পুলিশ সদস্য এবং ছয় আইএস জঙ্গি নিহত হয়েছেন। সোমবার দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর ইয়ালোভায় এই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলী ইয়ারলিকায়া জানিয়েছেন, ইস্তাম্বুলের দক্ষিণে মারমারা সাগর উপকূলীয় শহর ইয়ালোভার একটি বাড়িতে জঙ্গিরা অবস্থান করছে, এমন খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ। রয়টার্সের একজন আলোকচিত্রী জানান, অভিযানটি প্রায় আট ঘণ্টা স্থায়ী হয় এবং এ সময় থেমে থেমে গুলির শব্দ শোনা যায়।
এ সংঘর্ষে পুলিশের আটজন সদস্য এবং নিরাপত্তা বাহিনীর আরও একজন সদস্য আহত হয়েছেন। অভিযান শেষে ওই বাড়িটি থেকে পাঁচজন নারী ও ছয়টি শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। মন্ত্রী জানান, নিহত ছয় জঙ্গিই তুরস্কের নাগরিক।
বড়দিন ও ইংরেজি নববর্ষের উৎসবে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে গত সপ্তাহে ১১৫ জন সন্দেহভাজন আইএস সদস্যকে গ্রেফতারের পর সোমবার ভোরে তুরস্কজুড়ে আবারও সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সোমবার সকালে ১৫টি প্রদেশের ১০৮টি ঠিকানায় একযোগে অভিযান চালানো হয়েছে। গত এক মাসে দেশটিতে মোট ১৩৮ জন সন্দেহভাজন আইএস সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ইস্তাম্বুলের প্রধান প্রসিকিউটর অফিস গত সপ্তাহে জানিয়েছিল, আইএস জঙ্গিরা বিশেষ করে অমুসলিমদের লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা করছিল।
এক বার্তায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জনগণের শান্তি ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিতকারী এই রক্তপিপাসু ভিলেনদের বিরুদ্ধে লড়াই দেশের ভেতরে ও বাইরে সমানতালে অব্যাহত থাকবে।
সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে আইএস নতুন করে সক্রিয় হয়ে ওঠার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। গত সপ্তাহে নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে জঙ্গিদের ওপর হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া সিরিয়ায় মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার জবাবে গত ১৯ ডিসেম্বর আইএসের বেশ কিছু লক্ষ্যবস্তুতে বড় ধরনের হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। চলতি মাসে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে একটি অনুষ্ঠানে হামলার পেছনেও আইএসের অনুপ্রেরণা ছিল বলে ধারণা করছে দেশটির পুলিশ।
২০১৫ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে তুরস্কে আইএসের ধারাবাহিক হামলা দেখা গিয়েছিল। ওই সময় ইস্তাম্বুলের নাইটক্লাব ও প্রধান বিমানবন্দরে বড় ধরনের হামলায় বহু মানুষ প্রাণ হারান। সিরিয়া যুদ্ধের সময় বিদেশি যোদ্ধাদের যাতায়াতের অন্যতম ট্রানজিট পয়েন্ট ছিল তুরস্ক। ২০১৭ সালের পর বড় কোনও হামলা না হলেও তুরস্ক নিয়মিতভাবে এই জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আসছে।
মন্তব্য করুন