গাজীপুরের তরুণদের পছন্দ ফ্রিল্যান্সিং
রেজাউল করিম মজুমদার (গাজীপুর): শিল্পনগরী গাজীপুরে এখন আর তরুণদের স্বপ্ন শুধু প্রথাগত চাকরি কিংবা কারখানার নির্দিষ্ট ডেস্কে আটকে নেই। ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা এবং বিশ্ববাজারের উন্মুক্ততার কারণে গাজীপুরের নতুন প্রজন্মের বড় একটি অংশ প্রথাগত বৃত্ত ভেঙে ফ্রিল্যান্সিং ও স্বাধীন পেশার দিকে ঝুঁকছে। অনেকে আবার একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি পার্ট-টাইম ফ্রিল্যান্সিং করে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন।
শিল্পের শহর হিসেবে পরিচিত গাজীপুরে এখন প্রযুক্তির হাওয়া বইছে। ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বিভিন্ন কলেজের হাজার হাজার শিক্ষার্থী এখন পড়াশোনার পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিংকে পেশা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।
দেশের সামগ্রিক জব মার্কেটে এন্ট্রি-লেভেলের বেতন সীমিত হলেও দক্ষ ফ্রিল্যান্সাররা আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেস থেকে শুরুতেই উল্লেখযোগ্য অংকের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন। বিশেষ করে ঢাকা-গাজীপুর রুটের তীব্র যানজট এড়িয়ে ঘরে বসে গ্লোবাল ক্লায়েন্টদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ তরুণদের এই পেশার প্রতি আরও বেশি আকৃষ্ট করছে। গাজীপুর চৌরাস্তা, শিববাড়ী ও বোর্ডবাজার এলাকায় গড়ে ওঠা বিভিন্ন আইটি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট এই খাতে তরুণদের ক্রমবর্ধমান চাহিদাকেই ফুটিয়ে তুলছে।
ডুয়েটের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদ (২২) জানান, প্রথাগত চাকরির ধরাবাঁধা নিয়ম ও যানজটের ঝামেলা এড়িয়ে তিনি ফ্রিল্যান্সিংকে বেছে নিয়েছেন এবং বর্তমানে পড়াশোনার পাশাপাশি স্বাধীনভাবে ভালো আয় করছেন। তবে অন্যদিকে, একটি বেসরকারি পোশাক কারখানার জুনিয়র এক্সিকিউটিভ আশরাফুল ইসলাম (২৮) মনে করেন, প্রথাগত চাকরির নির্দিষ্ট আয়ের নিশ্চয়তা থাকলেও বর্তমান বাজারে টিকে থাকা এবং তরুণদের ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে অধিক আয়ের বিষয়টি নতুন এক বাস্তবতার জন্ম দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্রিল্যান্সিংয়ে আয়ের দারুণ সুযোগ থাকলেও এতে নির্দিষ্ট সামাজিক নিরাপত্তা বা স্থায়ী পেনশনের সুযোগ নেই। তা সত্ত্বেও গাজীপুরের স্থানীয় ফ্রিল্যান্সিং কমিউনিটির তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬৫ শতাংশ তরুণ এখন প্রথাগত চাকরি খোঁজার চেয়ে এআই মার্কেটিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন ও ডাটা সায়েন্সের মতো ফ্রিল্যান্সিং স্কিল উন্নয়নে বেশি আগ্রহী। নতুন প্রজন্ম এখন আর কেবল 'চাকরি প্রার্থী' থাকতে নয়, বরং 'গ্লোবাল আর্নার' বা বৈশ্বিক আয়কারী হতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে।
এআইএল/সকালবেলা