মুরাদনগরে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৯ অপরাহ্ণ
মুরাদনগরে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্কঃ কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বুধবার সকালে আকস্মিক পরিদর্শন পরিচালনা করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। পরিদর্শনকালে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি, রোগীদের সেবার সার্বিক মান এবং হাসপাতালের পরিবেশ প্রত্যক্ষ করে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা পাঁচজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জোরালো নির্দেশ দেন তিনি। একই সাথে অন্যান্য স্থানে সংযুক্তিতে (অ্যাটাচমেন্ট) থাকা আরও সাতজন চিকিৎসককে দ্রুত নিজ মূল কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেন।

আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মন্ত্রী কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপস্থিত হন। তিনি বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে রোগীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন, চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং দুজন অসচ্ছল রোগীকে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

হাসপাতাল সূত্রের তথ্যমতে, ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে মোট ৫১ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও পরিদর্শনকালে মাত্র ৩৯ জন উপস্থিত ছিলেন। বাকি ১২ জনের মধ্যে সাতজন সরকারি নির্দেশে অন্যত্র সংযুক্তিতে কাজ করছেন এবং পাঁচজন চিকিৎসক দীর্ঘদিন ধরে কোনো অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। এ নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে মন্ত্রী অনুপস্থিত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিতের কথা জানান। পাশাপাশি আগামী ১ নভেম্বর দেশে নতুন যোগদান করতে যাওয়া ৪৮ জন চিকিৎসকের একটি অংশকে দ্রুত মুরাদনগরে পদায়ন করার আশ্বাস দেন।

পরিদর্শনকালে স্থানীয় জনগণের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, হাসপাতালে ১০টি অত্যাধুনিক ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপন, প্রসূতি নারীদের জন্য বিশেষ ২০ শয্যার আলাদা ওয়ার্ড, নবজাতকদের চিকিৎসায় ২০ শয্যার ইউনিট, পুরুষ ও নারীদের জন্য পৃথক ফিজিওথেরাপি সেবা এবং ব্রেস্টফিডিং সেন্টার চালু করা হবে। আগামী ১৫ থেকে ১৬ দিনের মধ্যে এই নতুন প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে জানান তিনি।

হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার সার্বিক মান আগের চেয়ে কিছুটা উন্নত হলেও ভেতরের বর্জ্য ও আবর্জনা ব্যবস্থাপনা দেখে কড়া অসন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। হাসপাতালের পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন থাকা সেবার জন্য হুমকি উল্লেখ করে তিনি জানান, উপজেলায় পর্যাপ্ত জমির সংকট থাকলেও স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে হাসপাতাল প্রাঙ্গণেই আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্থাপন করা হবে। এছাড়া বিকল হয়ে পড়ে থাকা যানবাহনগুলো দ্রুত 'কন্ডেমনেশন' প্রক্রিয়ায় বাদ দেওয়ার পাশাপাশি আগামী অর্থবছরের মধ্যে নতুন অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

সকালবেলা / নুসরাত