গাজায় হত্যাকাণ্ডের দায় ধ্বংসস্তূপের আড়ালে চাপা দেওয়া যাবে না
অনলাইন ডেস্ক : অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে নিরীহ ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ওপর সংগঠিত নির্বিচার হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর কঠোর আইনি জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো এই নৃশংসতার দায় কোনো অবস্থাতেই গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়তে দেওয়া যাবে না।
আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানায়, আন্তর্জাতিক আইন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার ওপরই গাজার ভবিষ্যৎ ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়া অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে।
সংস্থাটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি ও আলোচনার পর থেকেও গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ১,৪০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। বর্তমানে সেখানকার প্রায় ২০ লাখ মানুষ স্থায়ী মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে তীব্র আশ্রয়সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। উপরন্তু, ইসরায়েলি লাগাতার বোমাবর্ষণ ও অবরোধের কারণে গাজার কোনো হাসপাতালেই চিকিৎসা সেবা পুরোপুরি সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না। একইসঙ্গে খাদ্য ও ত্রাণের চরম অভাবে অন্তত ১৪ লাখ মানুষ গুরুতর খাদ্যসংকটের মুখে পড়েছেন।
বিবৃতিতে অ্যামনেস্টি অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে উল্লেখ করেছে যে, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) দেওয়া বাধ্যতামূলক আইনি আদেশগুলো মেনে চলতে ইসরায়েলকে বাধ্য করার ক্ষেত্রে বৈশ্বিক শক্তিগুলোর ধারাবাহিক ব্যর্থতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। এই নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়েই ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে আরও ব্যাপক মাত্রায় নৃশংস অপরাধ ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাওয়ার সাহস পাচ্ছে। অবিলম্বে ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক আইনি জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।
সকালবেলা / নুসরাত