নিখোঁজদের মৃত ঘোষণায় আইন সংশোধনে অধ্যাদেশের সুপারিশ নেপাল সরকারের
অনলাইন ডেস্ক: নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিখোঁজ হাজার হাজার মানুষকে দ্রুত মৃত ঘোষণা করার ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনি বাধা দূর করতে জরুরি ভিত্তিতে আইন সংশোধনের জন্য অধ্যাদেশ জারির সুপারিশ করেছে দেশটি।
বুধবার রাজধানী কাঠমাণ্ডুর সিংহ দরবারে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দুর্যোগ-সংক্রান্ত আইন সংশোধন করে নিখোঁজ ব্যক্তিদের মৃত ঘোষণা করার সময়সীমা এক ধাক্কায় রেকর্ড পরিমাণ কমিয়ে আনার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই (ANI) নিউজের বরাতে জানা যায়, নেপাল সরকারের মুখপাত্র ও শিক্ষামন্ত্রী অসমিত পোখরেল সাংবাদিকদের এই নতুন সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘নেপালের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি নিখোঁজ হলে তাকে আইনিভাবে মৃত ঘোষণা করার জন্য দীর্ঘ ১২ বছর অপেক্ষা করতে হতো। কিন্তু ভোতেকোশি নদীর সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও ক্ষয়ক্ষতির সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে এই সময়সীমা কমিয়ে মাত্র ৪৫ দিনে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
গত ২৬ আগস্ট সকালে নেপালের রাসুয়া জেলার নদীর তীরবর্তী বসতিগুলোতে এক ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় নেমে আসে, যাকে ভূতাত্ত্বিক ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ‘হিমালয়ান সুনামি’ হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। বিশাল পাথর ও বরফ ধসের ফলে আকস্মিক ও তীব্র এই বন্যার সৃষ্টি হয়, যা মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে পাশ্ববর্তী নুয়াকোট ও ধাদিং জেলাসহ বিশাল পাহাড়ি অঞ্চলে। তিব্বত সীমান্তবর্তী উঁচু এলাকার তিমুরে ও সিয়াফ্রু বেসির মতো সমৃদ্ধ বসতিগুলো ঢলের তোড়ে পুরোপুরি মাটির সঙ্গে মিশে যায়।
ভয়াবহ এই দুর্যোগে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নদীর স্রোত ও বিশাল ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। বন্যায় সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৭০ হাজারের বেশি মানুষ, যাদের বড় একটি অংশ এখন গৃহহীন ও নিঃস্ব।
নেপাল সরকারের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, দেশের অর্থনীতি ও অবকাঠামোর ওপর নেমে এসেছে এক অভূতপূর্ব ধস। প্রাথমিক ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠন করতেই প্রয়োজন হবে প্রায় ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার, যা পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে অন্তত ১০ বছর সময় লাগতে পারে।
বন্যার পানিতে ৮টি সক্রিয় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প (উৎপাদন ক্ষমতা ২৮ মেগাওয়াট) এবং নির্মাণাধীন আরও ৪টি প্রকল্প (উৎপাদন ক্ষমতা ৩৮৮ মেগাওয়াট) মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে জাতীয় গ্রিডে মোট ৪৩১ দশমিক ১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পূর্ণ ব্যাহত হচ্ছে।
একই সঙ্গে গালছি-বেত্রাবতী-রাসুওয়াগাধি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বিখ্যাত পৃথ্বী মহাসড়কের বহু অংশ ধসে গেছে। চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে ৪৮টি ঝুলন্ত সেতু এবং যানবাহন চলাচলের উপযোগী ৩১টি মূল সেতু। এমন পরিস্থিতিতে নিখোঁজদের দ্রুত মৃত ঘোষণার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তাঁদের স্বজনরা সরকারি আর্থিক সহায়তা, অনুদান ও উত্তরাধিকার সূত্রে আইনি প্রক্রিয়াগুলো দ্রুত সম্পন্ন করতে পারবেন বলে আশা করছে নেপাল সরকার।