সৌদির রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতির ভয়াবহ হামলা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০১ অপরাহ্ণ
সৌদির রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতির ভয়াবহ হামলা

অনলাইন ডেস্ক: সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কৌশলগত বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে বড় ধরনের দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র হুতি বিদ্রোহী বাহিনী।

হুতিদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো অত্যন্ত নিখুঁতভাবে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক এই প্রধান বিমানবন্দরের স্বাভাবিক ফ্লাইট কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। নজিরবিহীন এই আক্রমণের পরপরই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক বিমান সংস্থাসমূহকে সৌদি আকাশসীমা ব্যবহারের বিষয়ে নতুন করে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল মায়াদিনের এক প্রতিবেদনে প্রকাশ করা তথ্য মতে, ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহইয়া সারি এক সামরিক বিবৃতিতে স্পষ্ট করে জানান, মক্কা ও মদিনা—এই দুই পবিত্র ভূমির ওপরের আকাশপথ ব্যতীত পুরো সৌদি আকাশসীমাকে এখন থেকে ইয়েমেনি সামরিক বাহিনীর নিয়মিত অভিযানের মূল কেন্দ্র বা থিয়েটার হিসেবে গণ্য করা হবে।

জেনারেল ইয়াহইয়া সারি আরও দাবি করেন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশাপাশি রাস আল-আরা অঞ্চলের কাওয়া ক্যাম্পে অবস্থানরত সৌদি সেনাবাহিনীর বড় সেনাসমাবেশ ও তাদের প্রধান অস্ত্রাগার লক্ষ্য করে অত্যন্ত নিখুঁত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে মারা হয়েছে। এই হামলায় বেশ কয়েকটি অস্ত্রাগারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে এবং বিপুল সংখ্যক সেনা হতাহত হয়।

একই সময়ে বাব আল-মানদাব, আস-সাকিয়া ও আল-মুদারাবা এলাকার দক্ষিণাংশে সক্রিয় সৌদি সমর্থিত ‘১৩তম জায়ান্টস ব্রিগেড’-এর ওপর লক্ষ্যভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করা হয়। কথিত এই ব্রিগেডের একটি বিশেষ ইউনিটের অন্তত ৩০ জনের বেশি সেনা সদস্য হতাহত ও সামরিক যানবাহন ধ্বংস হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

শুধু স্থলভাগেই নয়, আকাশসীমাতেও হুতি বাহিনী নিজেদের উপস্থিতির প্রমাণ দিয়েছে। হুতিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তায়েজ শহরের আকাশে শত্রুভাবাপন্ন ও নজরদারিমূলক অভিযান পরিচালনাকালে সৌদি বাহিনীর ব্যবহৃত তুর্কি প্রযুক্তির অত্যাধুনিক 'বায়রাক্তার আকিনসি' (Bayraktar Akinci) সশস্ত্র ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করেছে তারা।

অন্যদিকে, পূর্বাঞ্চলীয় আল-জাওফ গভর্নরেটে হুতিদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে প্রবেশের জন্য চেষ্টা করা সৌদি সেনাবাহিনীর একটি বড় সাঁজোয়া বহরের অগ্রযাত্রাকে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও একঝাঁক বিধ্বংসী ড্রোন হামলার মাধ্যমে পুরোপুরি নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে বলে ইয়েমেনি বাহিনীর বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়।