ধর্ম ডেস্ক : চলতি বছরের পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা সফলভাবে সমাপ্ত হওয়ার পর, নিজ নিজ দেশে ফিরে যাওয়া লাখ লাখ আন্তর্জাতিক হাজি এবং হজের মাঠপর্যায়ে দিনরাত নিয়োজিত থাকা বিভিন্ন স্তরের কর্মীদের মাঝে সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের পক্ষ থেকে পবিত্র কোরআন ও এর অনুবাদের কপি বিতরণ শুরু করেছে দেশটির ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। বিদায়ী হাজিদের প্রতি বিশেষ সম্মান ও ধর্মীয় ভ্রাতৃত্বের নিদর্শনস্বরূপ এই রাজকীয় উপহারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আজ সোমবার (১ জুন) দুপুর ১২টা ২১ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘ধর্ম’ ও ‘আন্তর্জাতিক’ বিভাগের এক যৌথ বিশেষ প্রতিবেদনে সৌদির এই কোরআন বিতরণ কর্মসূচির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
সৌদি আরবের অফিশিয়াল বার্তা সংস্থা ‘এসপিএ’ (SPA)-র বিশেষ খবরে জানানো হয়েছে, জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিভিন্ন বহির্গমন লাউঞ্জগুলোতে (Departure Lounges) পবিত্র কোরআনের এই কপি বিতরণের মূল কাজ ইতিমধ্যেই পুরোদমে শুরু করা হয়েছে। বিদেশি হাজিরা নিজ নিজ দেশের উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক বিমানে ওঠার ঠিক আগমুহূর্তে তাঁদের হাতে এই পবিত্র উপহার পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করছেন দায়িত্বরত কর্মকর্তারা। মদিনার বিশ্ববিখ্যাত ‘কিং ফাহদ কোরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স’-এ অত্যন্ত নিখুঁত ও চমৎকারভাবে মুদ্রিত সর্বমোট ১৯ লাখ পবিত্র কোরআনের কপি এবার হাজিদের মাঝে পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হবে।
সৌদি আরব প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজিরা যেন খুব সহজেই নিজ নিজ মাতৃভাষায় মহাগ্রন্থ আল-কোরআনের মূল বাণী ও মর্মার্থ অনুধাবন করতে পারেন, সেজন্য বাংলাসহ ৮০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক ভাষার অনুবাদসহ কোরআনের এই বিশেষ কপিগুলো সরবরাহ করা হয়েছে। সৌদির ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় আরও নিশ্চিত করেছে যে, আগামী দিনগুলোতে দেশের সব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সীমান্ত এলাকার স্থলবন্দর এবং সমুদ্রবন্দরে বিরতিহীনভাবে ২৪ ঘণ্টা এই কোরআন বিতরণ কার্যক্রম চালু থাকবে।
হাজিদের এই রাজকীয় আতিথেয়তা নিয়ে সৌদি আরবের ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রী শেখ আব্দুল লতিফ আল শেখ বলেন, “বাদশাহর পক্ষ থেকে দেওয়া এই অমূল্য উপহারটি বিশ্বজুড়ে পবিত্র কোরআনের সত্য ও শান্তির বাণী ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের আন্তরিক প্রয়াস এবং মুসলিম উম্মাহর প্রতি ভালোবাসারই এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ।”
এদিকে, সৌদি আরবের পাসপোর্ট অধিদপ্তর (Jawasat) নিশ্চিত করেছে যে, হজ পরবর্তী সময়ে লাখ লাখ হাজিদের কোনো প্রকার ঝক্কি-ঝামেলা ছাড়াই নির্বিঘ্নে নিজ দেশে ফেরার ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দেশের সব স্থল, আকাশ ও সমুদ্রবন্দরে প্রযুক্তিগত পূর্ণ প্রস্তুতি এবং সর্বোচ্চ প্রশাসনিক সক্ষমতা বজায় রাখা হয়েছে। একই সাথে প্রতিষ্ঠানটি সব আন্তর্জাতিক হাজির প্রতি নিজ নিজ এজেন্সির নির্ধারিত বিমান ও ভ্রমণ সূচি কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানিয়েছে।
সৌদি আরবের অফিশিয়াল পরিসংখ্যান ও কর্তৃপক্ষের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের পবিত্র হজে অংশ নেওয়া সর্বমোট হাজির সংখ্যা ১৭ লাখ ৭ হাজার ৩১০ জনে পৌঁছেছে, যা গত বছরের তুলনায় ২.০৪ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুট ও পথ দিয়ে সৌদি আরবে এসেছেন ১৫ লাখchecker ৪৬ লাখ ৬৫৫ জন বিদেশি হাজি। অন্যদিকে, সৌদি আরবের নিজস্ব নাগরিক ও দেশটিতে কর্মরত বিদেশি বাসিন্দা মিলিয়ে অভ্যন্তরীণ হাজির সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৬০ হাজার ৬৪৬ জন।
জান্নাত সকালবেলা