সিগারেটের এক টানে শরীরে ঢোকে শত বিষ

প্রকাশ: রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০৫:৪৩ অপরাহ্ণ
সিগারেটের এক টানে শরীরে ঢোকে শত বিষ

লাইফস্টাইল ডেস্ক : আধুনিক সমাজে সর্বনাশা মাদকের দুনিয়ায় পা রাখার প্রধান ‘প্রবেশদ্বার’ বলা হয় সাধারণ ধূমপান বা সিগারেটকে। চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত ধূমপানের অভ্যাসের ফলেই মানুষের মধ্যে পরবর্তীতে অন্যান্য ভয়ংকর মাদক গ্রহণ করার এক ধরনের মানসিক ও শারীরিক প্রবণতা তীব্রভাবে বেড়ে যায়। আর এই কারণেই ধূমপানকে সরাসরি ‘বিষপান’-এর সঙ্গে তুলনা করা হয়ে থাকে। আপাতদৃষ্টিতে একটি ছোট সিগারেটের ধোঁয়ায় লুকিয়ে আছে চার হাজারেরও বেশি জটিল রাসায়নিক উপাদান, যার মধ্যে অন্তত ২৫০টি উপাদানই মানবশরীরের জন্য সরাসরি এবং চরমভাবে ক্ষতিকর।

আজ রবিবার (৩১ মে) বিকেল ৪টা ৫৪ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘লাইফস্টাইল’ বিভাগের এক বিশেষ স্বাস্থ্য ও সচেতনতামূলক প্রতিবেদনে ধূমপানের ক্ষতিকর দিক এবং তামাকের আধুনিক রূপের ভয়াবহতা বিস্তারিতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।


লাইফস্টাইল প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জ্বলন্ত সিগারেটে যখন একজন মানুষ টান দেন, তখন সেখানে কেবল শুকনো তামাক পাতা পোড়ে না; বরং সেই সাথে পুড়তে থাকে ওই মানুষের শরীরের ভেতরের যাবতীয় সুস্থতা ও জীবনীশক্তি। ধোঁয়ার সঙ্গে ফুসফুসে অনায়াসে ঢুকে পড়ে হাজারো বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ, যা অত্যন্ত নিঃশব্দে ও গোপনে আক্রমণ করে মানুষের ফুসফুস, হৃদযন্ত্র, প্রধান রক্তনালি এবং শরীরের নানা সংবেদনশীল অঙ্গকে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলছেন— মানবদেহে ক্যানসার, হৃদরোগ, ব্রেইন স্ট্রোক কিংবা দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্টের (সিওপিডি) মতো প্রাণঘাতী রোগের পেছনে অধিকাংশ সময়ই এই ছোট্ট ও আপাত সাধারণ অভ্যাসটির দীর্ঘ কালো ছায়া জড়িয়ে থাকে। তামাকের সবচেয়ে ভয়ংকর দিক হলো, এর অভ্যন্তরীণ ক্ষয়ক্ষতি সব সময় তাৎক্ষণিকভাবে চোখে পড়ে না। অনেকটা আড়ালে থাকা নীরব ঘাতকের (Silent Killer) মতো এটি ধীরগতিতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে একদম দুর্বল করে দেয় এবং মানুষকে একসময় অবধারিত ও ভয়াবহ মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়।


ধূমপানের কুফল শুধু নিজের শরীরের চার দেয়ালেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি কেবল একটি স্বাস্থ্যগত বিষয়ই নয়, বরং এর সঙ্গে অন্যের জীবনের বড় ঝুঁকি জড়িয়ে থাকায় এটি একটি নৈতিক এবং সামাজিক বড় সমস্যা হিসেবেও বিশ্বজুড়ে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। একজন মানুষ যখন মনের সুখে সিগারেটে টান দেন, তখন সেই বিষাক্ত ধোঁয়ার সমান অংশীদার হয়ে যান তাঁর আশেপাশে থাকা সম্পূর্ণ নির্দোষ মানুষগুলোও। বাড়ির ছোট্ট শিশু, বয়োবৃদ্ধ বাবা-মা কিংবা পরিবারের অন্তঃসত্ত্বা বা গর্ভবতী নারী— কারও জন্যই বাতাসের এই অদৃশ্য ধোঁয়া বিন্দুমাত্র নিরাপদ নয়। ঘরের বদ্ধ কোণে ভেসে থাকা এই বিষাক্ত ধোঁয়া কখনো কখনো পরিবারের প্রিয় সদস্যদের ভবিষ্যতের বড় কোনো জটিল অসুস্থতার মূল কারণ হয়ে উঠতে পারে। ফলে তামাকের এই ক্ষতি ব্যক্তিগত সীমা ছাড়িয়ে এক বড় সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নেয়।


আমাদের সমাজে অনেকেই এক ধরনের ভ্রান্ত ধারণা পোষণ করেন যে— জর্দা, গুল, গুটখা কিংবা খৈনির মতো ধোঁয়াবিহীন তামাকগুলো হয়তো সিগারেটের তুলনায় বেশ কম ক্ষতিকর। তবে চিকিৎসকদের কড়া হুঁশিয়ারি হচ্ছে, এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল ও ভিত্তিহীন। ধোঁয়াবিহীন এই তামাকগুলো মানুষের মুখগহ্বর, জিহ্বা, মাড়ি, গলা এবং খাদ্যনালির ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। দীর্ঘদিন এসব পণ্য ব্যবহারের ফলে দাঁত ও মাড়ির নানাবিধ স্থায়ী সমস্যা দেখা দেয়, যা শেষ পর্যন্ত যেকোনো ব্যক্তির জীবনে একটি মরণফাঁদ হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে।


বর্তমান যুগে সময় বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে তামাক বিপণনের কৌশল ও রূপও বেশ বদলে গেছে। হালের তরুণ প্রজন্মের কাছে ‘ই-সিগারেট’ (E-cigarette), বিভিন্ন ভেপিং ডিভাইস (Vaping) কিংবা হরেক রকমের ফ্লেভারযুক্ত নিকোটিন পণ্যকে এক ধরনের আধুনিক ও স্মার্ট জীবনযাপনের অংশ হিসেবে অত্যন্ত চতুরতার সাথে তুলে ধরা হচ্ছে। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, তামাকের বাহ্যিক মোড়ক কিংবা সুগন্ধি ফ্লেভার বদলালেও এর ভেতরের আসল ঝুঁকি কিন্তু এতটুকুও কমেনি। ভেপিংয়ের কৃত্রিম ধোঁয়াও ফুসফুসের টিস্যুকে চিরতরে ধ্বংস করতে সমানভাবে দায়ী। তাই নিজেকে ও পরিবারকে বাঁচাতে সব ধরনের তামাক বর্জনের বিকল্প নেই।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন