সরিষাবাড়ীতে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ, সহযোগী গ্রেফতার
জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক কলেজছাত্রীকে (১৯) জোরপূর্বক আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় অভিযুক্ত মূল ধর্ষককে সহায়তার অভিযোগে সাইফুল খান (৪২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
নির্যাতনের শিকার ওই তরুণী স্থানীয় একটি কলেজের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ভাটারা ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের মানিক ওরফে নাহিদ দীর্ঘদিন ধরে ওই কলেজছাত্রীকে প্রেম ও বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। তবে তরুণীর পরিবার প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করায় নাহিদ ক্ষিপ্ত হয়। পরে সে কৌশলে তরুণীর চাচা সাইফুল খানকে নিজের পক্ষে হাত করে এবং তাঁর মাধ্যমে তরুণীকে ভাটারা বাজারে ডেকে আনে।
ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবারের অভিযোগ, জন্মনিবন্ধনের জরুরি কাগজপত্র দেওয়ার কথা বলে তরুণীকে প্রথমে একটি স্থানীয় কাজি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক বিভিন্ন ভুয়া নথিতে তাঁর স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এরপর সেখান থেকে তাঁকে সরিষাবাড়ী পৌরসভার ইস্পাহানি এলাকার একটি বাসায় নিয়ে আটকে রাখা হয় এবং কয়েকদিন ধরে তাঁর ওপর পাশবিক নির্যাতন (ধর্ষণ) চালানো হয়।
এই লোমহর্ষক ঘটনায় ভুক্তভোগী কলেজছাত্রীর মা বাদী হয়ে সরিষাবাড়ী থানায় মূল অভিযুক্ত নাহিদসহ ৭ জনকে আসামি করে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে গতকাল সোমবার (২৫ মে) রাতে পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত দ্বিতীয় আসামি ও তরুণীর দূরসম্পর্কের চাচা সাইফুল খানকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “গ্রেফতারকৃত আসামিকে আজ আদালতের মাধ্যমে জামালপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার মূল হোতা মানিক ওরফে নাহিদসহ মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।”
এআইএল/সকালবেলা
|