ধর্ম ডেস্ক: কোরবানি ইসলামের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র ইবাদত। এই ইবাদতের একমাত্র মূল উদ্দেশ্য হলো মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির জন্য পশু জবেহ করা। তবে কোরবানির আমলটি আল্লাহর দরবারে কবুল হওয়ার জন্য এর সঠিক নিয়ম ও সময়সীমা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। অনেকে জানতে চান ঈদের নামাজের আগেই কোরবানি করা যাবে কি না। ইসলামের বিধান অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত ছাড়া সাধারণ শহর বা বড় জনপদে ঈদের নামাজের আগে কোরবানি করলে তা আদায় হবে না।
শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী, ঈদুল আজহার দিন কোরবানির পশু জবাই করার সময় শুরু হয় মূলত ঈদের নামাজ শেষ হওয়ার পর থেকে। জুন্দাব ইবনু আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন— ‘নবীজি (সা.) কোরবানির দিন প্রথমে নামাজ আদায় করেন, তারপর খুতবা দেন এবং এরপর পশু জবেহ করেন। সেই সাথে তিনি বলেন, নামাজের পূর্বে যে ব্যক্তি জবেহ করবে তাকে তার স্থলে আর একটি জবেহ করতে হবে (অর্থাৎ পূর্বেরটি কোরবানি হিসেবে গণ্য হবে না) এবং যে জবেহ করেনি, আল্লাহর নামে তার জবেহ করা উচিত।’ (সহীহ বুখারী, হাদিস: ৯৮৫)
সুতরাং, আপনার এলাকায় ঈদের প্রধান জামাত বা নামাজ শেষ হওয়ার পরেই কেবল কোরবানি সম্পন্ন করতে হবে।
হানাফি মাযহাবের ফিকাহবিদদের মতে, কোরবানির মূল সময় ১০ জিলহজ সুবহে সাদিক (ভোর) হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়ে যায়। তবে ক্ষেত্রভেদে এর নিয়মে ভিন্নতা রয়েছে
যেসব শহর, নগর বা বড় গ্রামে জুমার নামাজ ও ঈদের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে ঈদের নামাজের আগে কোরবানি করা সম্পূর্ণ অবৈধ। নামাজের আগে পশু জবেহ করলে তা সাধারণ গোশত হিসেবে গণ্য হবে, কোরবানি আদায় হবে না। এমন কোনো প্রত্যন্ত ও ছোট গ্রাম বা জনপদ যেখানে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার শরীয়তসম্মত পরিবেশ নেই, ঈদের জামাত হয় না কিংবা ঈদের নামাজ পড়া বৈধ নয়— সেসব এলাকার বাসিন্দারা ১০ জিলহজ সুবহে সাদিক হওয়ার পরপরই (ভোরের আলো ফোটার পর) কোরবানি করতে পারবেন। তাঁদের জন্য ঈদের নামাজের অপেক্ষা করা জরুরি নয়।
পবিত্র কোরআনের সূরা আনআমে (১৬২-১৬৩ নম্বর আয়াত) আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন যে— আমাদের নামাজ, ইবাদত, কোরবানি এবং জীবন-মরণ সবকিছুই একমাত্র আল্লাহর জন্য। তাই কোরবানি করার সময় কোনো তাড়াহুড়ো না করে, নিজের এলাকার প্রধান জামাত শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করাই শরীয়তের সঠিক নিয়ম ও ওয়াজিব বিধান।