আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তীব্র রাজনৈতিক সংকট, মন্ত্রিসভায় বিদ্রোহ এবং জনপ্রিয়তায় রেকর্ড ধসের মুখে অবশেষে পদত্যাগ করতে প্রস্তুত যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তিনি তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলকে জানিয়েছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতির বিশৃঙ্খলা দীর্ঘদিন টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয় এবং তিনি পদ ছাড়তে রাজি আছেন। তবে এই চলে যাওয়াটা তিনি ‘নিজের শর্তে’ এবং মর্যাদার সঙ্গে করতে চান।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম ‘ডেইলি মেইল’-এর এক এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে মন্ত্রিসভার এক প্রভাবশালী সদস্যের বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্টারমার হুট করে নয়, বরং নিজের পছন্দমতো সময়ে সরে দাঁড়ানোর জন্য শিগগিরই একটি সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করতে পারেন।
যুক্তরাজ্যের বর্তমান লেবার সরকার এখন চতুর্মুখী সংকটে জর্জরিত। লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসনের নিয়োগ এবং বিতর্কিত মার্কিন ধনকুবের ও শিশু যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে খোদ দলের ভেতরেই তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এর ওপর সাম্প্রতিক স্থানীয় সরকার নির্বাচনে লেবার পার্টির চরম হতাশাজনক ফলাফল স্টারমারের নেতৃত্বের ওপর বড় ধাক্কা দিয়েছে। দলের ভেতরে ও বাইরে থেকে তাঁর পদত্যাগের দাবি এখন সময়ের সঙ্গে জোরালো হচ্ছে।
স্টারমার সরকারের জন্য সবশেষ বড় ধাক্কাটি আসে মন্ত্রিসভার প্রভাবশালী সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের পদত্যাগের মাধ্যমে। শনিবার (১৬ মে) পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে স্ট্রিটিং স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে লেবার পার্টির নেতৃত্ব নির্বাচনে তিনি কিয়ার স্টারমারের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এবং প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য লড়বেন। একই সঙ্গে তিনি স্টারমারকে দ্রুত বিদায় নেওয়ার জন্য একটি ‘সময়সূচি’ নির্ধারণের আহ্বান জানান। ইতিপূর্বে দলের প্রায় ৭০ জন সংসদ সদস্যও (এমপি) প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তুলেছেন।
রাজনৈতিক এই অস্থিরতার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছেও কিয়ার স্টারমারের গ্রহণযোগ্যতা এখন শূন্যের কোঠায়। আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ‘ইউগোভ’ (YouGov)-এর সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৬৯ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ডে চরম অসন্তুষ্ট। ইউগোভের তথ্যমতে, স্টারমার বর্তমানে যুক্তরাজ্যের ইতিহাসের সবচেয়ে অজনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। অনেকেই তাঁর এই রাজনৈতিক খাদের কিনারে চলে আসাকে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রুসের মাত্র ৪৯ দিনের ক্ষণস্থায়ী ও বিপর্যয়কর শাসনামলের সঙ্গে তুলনা করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নিজের দলের ভেতরে যেভাবে একের পর এক মন্ত্রী পদত্যাগ করছেন এবং নেতৃত্ব নেওয়ার জন্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছেন, তাতে কিয়ার স্টারমারের পক্ষে বেশিদিন ডাউনিং স্ট্রিট টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।