ইসলামের দৃষ্টিতে কাওয়ালি গান

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ১২:৪০ অপরাহ্ণ
ইসলামের দৃষ্টিতে কাওয়ালি গান

ইসলামী জীবন ডেস্ক: ইসলাম মানুষের স্বভাবজাত অনুভূতি ও রুচির প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। মানুষের অন্তরে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা জাগ্রত করতে সুন্দর কথা, কবিতা বা প্রশংসামূলক আবৃত্তিকে ইসলাম সরাসরি অস্বীকার করে না; বরং শরিয়তের সীমারেখার মধ্যে থাকলে তা অনেক ক্ষেত্রে প্রশংসনীয়।

হামদ (আল্লাহর প্রশংসা), নাত (রাসুলুল্লাহ সা.-এর প্রশংসা) কিংবা নৈতিক উপদেশমূলক কাওয়ালি তখনই বৈধ হতে পারে যখন এতে কোনো প্রকার বাদ্যযন্ত্র বা মিউজিক থাকবে না। শিরকি, কুফরি বা অতিরঞ্জিত কোনো বক্তব্য থাকবে না। বেপর্দা নারী, নৃত্য বা অশ্লীল কোনো অনুষঙ্গ থাকবে না। এটি যেন মানুষকে ইবাদত থেকে গাফেল বা বিমুখ না করে।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা অনর্থক ও বিভ্রান্তিকর কথাবার্তা থেকে মুমিনদের দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন (সুরা লুকমান: ৬, সুরা ফুরকান: ৭২)। অন্যদিকে, সত্য ও প্রজ্ঞাপূর্ণ কবিতার প্রশংসা করে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই কিছু কবিতা প্রজ্ঞার মতো’ (আবু দাউদ)। বিশিষ্ট সাহাবি হাসান ইবনে সাবিত (রা.) ইসলামের পক্ষে কবিতা আবৃত্তি করতেন এবং রাসুল (সা.) তাকে উৎসাহ দিতেন।

বর্তমানে প্রচলিত কাওয়ালি গানের অনেক ক্ষেত্রেই বাদ্যযন্ত্র, মাজারকেন্দ্রিক অতিরঞ্জিত কর্মকাণ্ড এবং শরিয়ত পরিপন্থী পরিবেশ দেখা যায়, যা নির্ভরযোগ্য বুজুর্গদের আদর্শের পরিপন্থী। ফকিহদের মতে, রাসুল (সা.)-এর প্রশংসামূলক নাত থেকে সাধারণ গানবাজনার বৈধতা প্রমাণের সুযোগ নেই। যখন গান বা কবিতা মানুষের জীবনের মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায় এবং আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, তখন তা ইসলামে কঠোরভাবে নিন্দনীয়।

পরিশেষে, ইসলাম সৌন্দর্য ও হৃদয়ের ভাষাকে ইসলামী সীমারেখার ভেতরে পরিচালিত করতে চায়। তাই বাদ্যযন্ত্রমুক্ত এবং গুনাহের উপাদানহীন কাওয়ালি যা ঈমান ও নৈতিকতা বৃদ্ধি করে, তা চর্চায় ইসলামের অবকাশ রয়েছে।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন