হজযাত্রীর লাগেজ নিয়ে কসবায় সংঘর্ষ, আহত ১০
জেলা প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া: সৌদি আরবে এক হজযাত্রীর ফেলে আসা লাগেজ দেশে ফিরিয়ে আনাকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
আজ শনিবার (১৩ জুন) সকাল পৌনে ১০টার দিকে উপজেলা সদরের কদমতলী এলাকায় স্থানীয় শাহপুর ও আড়াইবাড়ি গ্রামের লোকজনের মধ্যে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শাহপুর গ্রামের এক বৃদ্ধা নারী চলতি বছর ‘কসবা হজ কাফেলা’ নামের একটি এজেন্সির মাধ্যমে পবিত্র হজ পালনে যান। সফলভাবে হজ সম্পন্ন করে দেশে ফেরার পথে অসাবধানতাবশত তিনি তাঁর একটি লাগেজ সৌদি আরবেই ফেলে আসেন। ওই লাগেজটি সৌদি থেকে ফেরত আনার জন্য গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বৃদ্ধার পরিবারের সদস্যরা কসবায় অবস্থিত ওই হজ এজেন্সির কার্যালয়ে গিয়ে চাপ দেন।
তবে এজেন্সি কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দেয়, লাগেজ দেখভালের মূল দায়িত্ব হজযাত্রীর নিজের, তাই এখানে এজেন্সির কিছু করার নেই। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে বৃদ্ধার স্বজনরা হজ এজেন্সির কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেন।
হজ এজেন্সির কার্যালয়ে ভাঙচুরের সেই ঘটনার জের ধরে আজ শনিবার সকালে কদমতলি এলাকায় শাহপুর ও আড়াইবাড়ি গ্রামের লোকজন লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মহাসড়কের পাশে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “সৌদি আরবে হজযাত্রীর লাগেজ ফেলে আসাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার জেরে এই দুই পক্ষের সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে। খবর পাওয়ার পরপরই কসবা থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় নতুন করে সংঘাত এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”
এআইএল/সকালবেলা
|