ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার সিল করে মাইন বসিয়েছে ইরান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের আশঙ্কায় নিজেদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভাণ্ডার আরও সুরক্ষিত করেছে ইরান। দেশটি পরমাণু স্থাপনাগুলোর প্রবেশপথ সিল করে সেখানে মাইন স্থাপন এবং কিছু গোপন সুড়ঙ্গ ধসিয়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
শনিবার (১৩ জুন) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যসংশ্লিষ্ট পাঁচটি সূত্রের বরাতে বলা হয়, এক মাস আগের তুলনায় বর্তমানে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতস্থলে পৌঁছানো অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র ওই ইউরেনিয়াম জব্দ করার পদক্ষেপ নিতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের কূটনৈতিক মিশন তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। একইভাবে হোয়াইট হাউসও সিএনএনের প্রশ্নের জবাব দেয়নি।
গোয়েন্দা সূত্রগুলোর দাবি, বর্তমানে ওই ইউরেনিয়াম ভাণ্ডারে প্রবেশ করা শুধু বিদেশি বাহিনীর জন্য নয়, ইরানের নিজের পক্ষেও কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ সেগুলো উদ্ধারে ভারী খননযন্ত্র এবং মাইন অপসারণ কার্যক্রম প্রয়োজন হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল নিউক্লিয়ার সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ‘পরমাণু উপাদান অপসারণ’ বিভাগের সাবেক প্রধান স্কট রোয়েকার বলেন, প্রতিবেদনের তথ্য সঠিক হলে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধারের প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে যাবে। তার মতে, এমন পরিস্থিতিতে ইরান ভবিষ্যতে দাবি করতে পারে যে কিছু ইউরেনিয়াম উদ্ধার করা সম্ভব নয়, যা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উদ্বেগ বাড়াতে পারে।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এর তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে প্রায় ৪০০ কেজি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। বিশুদ্ধতার মাত্রা ৯০ শতাংশে পৌঁছালে তা পরমাণু অস্ত্র তৈরির উপযোগী হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হয়।
গত বছর আইএইএ এ তথ্য প্রকাশের পর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। পরবর্তীতে ইরানের বিভিন্ন পারমাণবিক স্থাপনায় সামরিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তবে ওই অভিযানে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর ক্ষয়ক্ষতি হলেও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত উদ্ধার করা যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে একাধিক দফায় আলোচনা হলেও তা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়লেও বর্তমানে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সম্ভাব্য স্থায়ী শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
|