ইন্দোনেশিয়ায় আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে ৩ পর্বতারোহীর মৃত্যু

রাকিবুল হাসান
প্রকাশ: শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ১২:২৩ অপরাহ্ণ
ইন্দোনেশিয়ায় আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে ৩ পর্বতারোহীর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলের হালমাহেরা দ্বীপে অবস্থিত মাউন্ট ডুকোনো আগ্নেয়গিরির আকস্মিক অগ্ন্যুৎপাতে তিন পর্বতারোহীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৮ মে ২০২৬) ভোরে শুরু হওয়া এই অগ্ন্যুৎপাতে আরও অন্তত ১০ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

উত্তর হালমাহেরা জেলার পুলিশ প্রধান এরলিখসন পাসারিবু জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে দুইজন বিদেশি পর্যটক এবং একজন ইন্দোনেশিয়ার টারনেট দ্বীপের বাসিন্দা। অগ্ন্যুৎপাতের সময় ১৭ জন পর্বতারোহীর একটি দল সেখানে অবস্থান করছিল। তাদের মধ্যে সাতজন নিরাপদে নিচে নেমে আসতে সক্ষম হলেও বাকিরা আটকা পড়েন। এছাড়া এই ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।

ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র আবদুল মুহারি জানান, আঞ্চলিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা ও জাতীয় উদ্ধারকারী দল যৌথভাবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে। তবে আগ্নেয়গিরি থেকে অনবরত নির্গত হওয়া ধোঁয়া, ছাই এবং গর্জনের কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। অনেক স্থানে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় স্ট্রেচারে করে আহতদের নিচে নামিয়ে আনা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত মাস থেকেই মাউন্ট ডুকোনো আগ্নেয়গিরির অস্বাভাবিক তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। এর ফলে ওই এলাকাকে পর্যটক ও দর্শনার্থীদের জন্য আগেই নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই পর্বতারোহীরা চূড়ায় উঠেছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সরকারি ভূতাত্ত্বিক সংস্থার প্রধান লানা সারিয়া জানান, অগ্ন্যুৎপাতের সময় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং ছাইয়ের মেঘ আকাশসীমার প্রায় ১০ কিলোমিটার উঁচুতে ছড়িয়ে পড়ে। এই ছাই উত্তর দিকে প্রবাহিত হচ্ছে, যা আশপাশের তোবেলো শহরসহ আবাসিক এলাকাগুলোতে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিমান চলাচল ও সাধারণ পরিবহন ব্যবস্থাতেও এর প্রভাবে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইন্দোনেশিয়া ‘প্যাসিফিক রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে নিয়মিত আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ও ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটে থাকে।

মন্তব্য করুন