নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় জলদস্যুতা, চুরি ও চোরাচালানের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। নিয়মিত টহল ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে বন্দরের নিরাপত্তা পরিস্থিতির এই উন্নতি দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, বহিঃনোঙরে অবস্থানরত বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে বর্তমানে ড্রোন ও উন্নত গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। গত দেড় বছরে ১ হাজার ৩২০টির বেশি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। দস্যুতা ও ক্ষুদ্র চুরি প্রতিরোধে ৪৭টি বাণিজ্যিক জাহাজে সরাসরি বোর্ডিং পরিচালনা করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। এমনকি চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করে সংশ্লিষ্ট জাহাজে ফেরত দেওয়ারও নজির তৈরি হয়েছে। এই সফলতার স্বীকৃতিস্বরূপ ২৯টি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ কোস্ট গার্ডকে প্রশংসাপত্র দিয়েছে।
আঞ্চলিক জলদস্যুতা দমন সংস্থা ‘রিক্যাপ’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় ১৩টি চুরির ঘটনা ঘটলেও ২০২৫ সালে তা কমে মাত্র ৪টিতে দাঁড়িয়েছে। চলতি ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
নিরাপত্তা বাড়ায় চট্টগ্রাম বন্দরে বাণিজ্যিক জাহাজের আগমন ও কার্গো হ্যান্ডলিং উভয়ই বেড়েছে। কোস্ট গার্ড পূর্ব জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা সাব্বির আলম সুজন জানান:
জাহাজ আগমন: ২০২৫ সালে ৪,২৭৩টি জাহাজ হ্যান্ডলিং করা হয়েছে (প্রবৃদ্ধি ১০.৫০%)।
কার্গো হ্যান্ডলিং: ১৩৮.১৫ মিলিয়ন টন পণ্য খালাস করা হয়েছে (প্রবৃদ্ধি ১১.৪৩%)।
রাজস্ব আয়: বন্দরের মোট রাজস্ব আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫,৪৬০ কোটি টাকা।
কোস্ট গার্ডের দাবি, এই অর্জন দেশের ‘সুনীল অর্থনীতি’ বা ব্লু-ইকোনমির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্রবন্দরগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে ভবিষ্যতেও এই কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।