বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিবছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার ‘মা দিবস’ উদযাপিত হয়ে আসছে। সেই হিসেবে এ বছর ১০ মে মা দিবস উদযাপিত হবে। মা মানেই পরম মমতা, স্নেহ আর এক নিরাপদ আশ্রয়। মা ও সন্তানের এই নিঃস্বার্থ সম্পর্কের নানা দিক ও মা দিবসের তাৎপর্য নিয়ে এই বিশেষ আয়োজন।
সম্প্রতি কুমিল্লার লালমাইয়ের ১২ বছর বয়সী শিশু ছামিয়া আক্তারের একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়, যেখানে সে তার মৃত মায়ের কবরের পাশে বসে বিলাপ করে বলছিল, “আমারে কেন আপনার সাথে নিয়ে গেলেন না আম্মা।” এই আকুতি প্রমাণ করে, মা কেবল একজন মানুষ নন; মা হলেন সেই শীতল কোল, যেখানে জীবনের সব যন্ত্রণা ভুলে থাকা যায়।
মায়ের ভালোবাসা কতটা শক্তিশালী হতে পারে, তার প্রমাণ মেলে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায়:
গত ২৫ মার্চ রাজবাড়ী থেকে ঢাকা ফেরার পথে বাস নদীতে পড়ে গেলে মা নিজের জীবন দিয়ে জানালা দিয়ে ধাক্কা দিয়ে সন্তান আলিফকে রক্ষা করেন।
ভারতের মধ্যপ্রদেশে এক নৌকাডুবির পর দেখা যায়, মা তার চার বছরের সন্তানকে লাইফ জ্যাকেটের ভেতর বুকের সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রেখেছেন। নিজে মারা গেলেও সন্তানের প্রতি মায়ের আলিঙ্গন এতটুকু আলগা হয়নি।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, মা ও শিশুর মধ্যকার শৈশবের বন্ধন শিশুর শারীরিক, সামাজিক ও আবেগিক বিকাশে প্রধান ভূমিকা রাখে। যেসব শিশু মায়ের সঙ্গে সুদৃঢ় বন্ধনে বড় হয়, তাদের আত্মসম্মানবোধ এবং মানসিক চাপ সামলানোর ক্ষমতা অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত হয়।
যে মা একসময় সন্তানের প্রতিটি ছোট ছোট প্রয়োজনের খেয়াল রাখতেন, বার্ধক্যে এসে তিনিই কিছুটা নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। এই সময়ে মায়ের প্রতি সন্তানের দায়িত্ব কেবল আর্থিক বা চিকিৎসায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন মানসিক সঙ্গ দেওয়া। ব্যস্ততার মাঝে একটি ফোন কল বা পাশে বসে গল্প করাই হতে পারে তাঁদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশান্তি।
মাকে ভালোবাসতে বিশেষ কোনো দিনের প্রয়োজন হয় না ঠিকই, তবে এ দিবসটি মাকে আলাদাভাবে শ্রদ্ধা জানানোর এক সুন্দর সুযোগ। উপহার হিসেবে মায়ের পছন্দের খাবার, বই বা শাড়ি দেওয়া যেতে পারে, তবে উপহারের চেয়েও মায়ের কাছে মূল্যবান হলো সন্তানের একটু সময় ও মনোযোগ।
পরিশেষে, সম্পর্কের রূপ বদলালেও মায়ের ভালোবাসার গভীরতা কখনও কমে না। পৃথিবীর সব মা ভালো থাকুক সন্তানদের নিঃস্বার্থ ভালোবাসায় আর নিরাপদ আশ্রয়ে।
জান্নাত/সকালবেলা