অন্তঃসত্ত্বা শিশুর ভ্রূণের ডিএনএ টেস্ট নিয়ে র‍্যাবের বড় তথ্য প্রকাশ

রাকিবুল হাসান
প্রকাশ: বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০৩:৩৩ অপরাহ্ণ
অন্তঃসত্ত্বা শিশুর ভ্রূণের ডিএনএ টেস্ট নিয়ে র‍্যাবের বড় তথ্য প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার মদন উপজেলায় মাদ্রাসা শিক্ষকের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হওয়া সেই ১১ বছরের শিশুটির ভ্রূণের ডিএনএ (DNA) টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যটি সম্পূর্ণ ‘গুজব’ বলে স্পষ্ট করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। তবে এই চাঞ্চল্যকর মামলার মূল পলাতক আসামি মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহকে (৩৮) গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে বাহিনীটি।

বুধবার (৬ মে ২০২৬) দুপুরে ময়মনসিংহে র‍্যাব-১৪ এর সদর দপ্তরে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-১৪ এর কমান্ডিং অফিসার (সিও) নায়মুল হাসান।

শিশুটির ভ্রূণের ডিএনএ টেস্ট করা হয়েছে এবং এতে চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে— এমন কিছু ভিত্তিহীন তথ্য গত দুদিন ধরে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি বিনোদন জগতের অনেক তারকা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিও না জেনে এটি নিজ নিজ আইডি থেকে শেয়ার করেন।

এই প্রসঙ্গে র‍্যাব-১৪ এর সিও নায়মুল হাসান বলেন, “ডিএনএ টেস্টের যে খবরটি ছড়ানো হচ্ছে তা সত্য নয়, এখনো কোনো ডিএনএ টেস্ট হয়নি। এটি একটি সম্পূর্ণ গুজব। তবে তদন্তের স্বার্থে ও আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে যদি প্রয়োজন হয়, তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা অবশ্যই আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে ডিএনএ টেস্টের ব্যবস্থা করবেন।”

র‍্যাব জানায়, মামলা দায়েরের পর থেকেই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পলাতক আসামির অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা চলছিল। অবশেষে মঙ্গলবার (৫ মে) দিবাগত গভীর রাতে র‍্যাবের একটি চৌকস দল ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সোনমপুর গ্রামে এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এরপর ভোর ৪টার দিকে আত্মগোপনে থাকা অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে সংশ্লিষ্ট মদন থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

মামলার বিবরণ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতার হওয়া আমান উল্লাহ নেত্রকোনার মদন উপজেলার পাঁচহার গ্রামে একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। ভুক্তভোগী শিশুটি ওই মাদ্রাসারই শিক্ষার্থী ছিল। গত ২০২৫ সালের ২ অক্টোবর আমান উল্লাহ ফাঁকা মাদ্রাসায় শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং বিষয়টি কাউকে না জানাতে ভয়ভীতি দেখায়।

পরবর্তীতে শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ করে গত ১৮ এপ্রিল ২০২৬ নেত্রকোনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হলে চিকিৎসকরা জানান শিশুটি প্রায় ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এই ঘটনার পর গত ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে লম্পট শিক্ষক আমান উল্লাহকে একমাত্র আসামি করে মদন থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই আসামি পলাতক ছিল এবং তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল।

মন্তব্য করুন