ঢাকা ইস্ট-ওয়েস্ট এক্সপ্রেসওয়ে বাস্তবায়নে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান সেতুমন্ত্রীর

রাকিবুল হাসান
প্রকাশ: বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০২:২১ অপরাহ্ণ
ঢাকা ইস্ট-ওয়েস্ট এক্সপ্রেসওয়ে বাস্তবায়নে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান সেতুমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা মহানগরী ও এর আশপাশ এলাকার যোগাযোগব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে প্রস্তাবিত ‘ঢাকা ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্প’ দ্রুত ও সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন না হলে তা দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রের জন্য অর্থনৈতিক বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।

মঙ্গলবার (৫ মে ২০২৬) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের স্টেকহোল্ডার কনসালটেশন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান এবং সভাপতিত্ব করেন সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ।

সেতুমন্ত্রী জানান, প্রায় ৩৯ (৩৮.৯৮) কিলোমিটার দীর্ঘ এই এক্সপ্রেসওয়েটি ঢাকাকে বাইপাস করে সাভারের হেমায়েতপুর থেকে শুরু হয়ে কেরানীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ হয়ে লাঙ্গলবন্দ পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। পথে এটি বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা নদী অতিক্রম করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত হবে। এর ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে পূর্বাঞ্চলের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে, যা ঢাকার ওপর আন্তজেলা যানবাহনের চাপ এবং যানজট উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনবে। প্রকল্পটির হালনাগাদ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ইতিমধ্যে ইতিবাচকভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

অতীতের প্রকল্পগুলোর দীর্ঘসূত্রতা ও অর্থ অপচয়ের তীব্র সমালোচনা করে শেখ রবিউল আলম বলেন, “৫৩ বছরের অবকাঠামো নির্মাণের যে চিরাচরিত রাষ্ট্রীয় প্র্যাকটিস বা সংস্কৃতি, সেটি থেকে আমরা সম্পূর্ণ বেরিয়ে আসতে চাই। সেলফ কারেকশন (আত্মশোধন) এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক না করে আমরা আগের সরকারের মতো ঢালাওভাবে মেগা প্রজেক্টের পেছনে ছুটতে চাই না। বর্তমান সরকার অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পকে নিরুৎসাহিত করছে। আমরা এমনভাবে রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয় করতে চাই, যাতে এক টাকারও অপচয় না হয় এবং জনগণ তার শতভাগ সুফল পায়।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভূমি অধিগ্রহণে বিলম্বের কারণে অতীতে বহু প্রকল্পে নজিরবিহীনভাবে ব্যয় বেড়েছে। এই প্রকল্পটির ক্ষেত্রে যেন তার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য ইশতেহার অনুযায়ী পরিকল্পিত উপায়ে এগোতে হবে। এই প্রকল্প দেশের জন্য অনেক প্রয়োজনীয় হলেও এর পূর্ববর্তী নকশা ও বাস্তবায়নে কিছু ত্রুটি ছিল; এখন তা সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্তভাবে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কর্মশালায় জানানো হয়, মেগা প্রকল্পটির মোট সম্ভাব্য ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে মূল নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ২২ হাজার কোটি টাকা এবং ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ হাজার কোটি টাকা। প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে এই এক্সপ্রেসওয়েটি দেশের জন্য অত্যন্ত লাভজনক ও টেকসই হবে বলে কর্মশালায় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

মন্তব্য করুন