পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা, গুলিবিদ্ধ থানার ওসি

রাকিবুল হাসান
প্রকাশ: বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০১:০৩ অপরাহ্ণ
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা, গুলিবিদ্ধ থানার ওসি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে ব্যাপক রাজনৈতিক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। গত সোমবার (৪ মে ২০২৬) নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাত থেকেই কলকাতার পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্রমাগত সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের খবর আসছে।

 উত্তর ২৪ পরগনার ন্যাজাট থানার রাজবাড়ি এলাকায় তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যেকার তীব্র সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ভরত প্রসূন কর। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুপক্ষের মারামারি থামানোর চেষ্টা করার সময় একটি বাড়ির ভেতর থেকে হঠাৎ গুলি চালানো হয়। গুলিটি ওসির পায়ে লাগে। একই ঘটনায় তাঁর টিমের একজন পুলিশ কনস্টেবলও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহত দুজনকে উদ্ধার করে কলকাতার চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে যাদব বর (৪৮) নামের এক বিজেপি কর্মীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্র জানায়, বিজেপির জয়ের আনন্দে সোমবার রাতে আবির খেলার পর তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্যদিকে, বীরভূমের নানুরে আবির শেখ নামের এক স্থানীয় তৃণমূল কর্মীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, রাস্তা একা পেয়ে বিজেপি কর্মীরা তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করেছে।

ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ভাঙড় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, নির্বাচনে বিজয়ী ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ) এবং বিজেপির কর্মীরা রাতভর সাধারণ মানুষের বাড়িঘর ও তৃণমূল নেতাদের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও নারীদের মারধর করেছে। এছাড়া শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেবের নিজস্ব ওয়ার্ডে (৩৩ নম্বর ওয়ার্ড) তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় ভেঙে তছনছ করার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। পাশাপাশি মুর্শিদাবাদের ডোমকলে শফিকুল ইসলাম নামের এক সিপিএম কর্মীও গলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করে বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের একাধিক কর্মী খুন হয়েছেন এবং ৩০০ থেকে ৪০০ দলীয় কার্যালয় ও ১৫০ প্রার্থীর বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি কর্মীদের শক্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দল তাদের পাশে আছে এবং এ বিষয়ে একটি ১২ সদস্যের অনুসন্ধান কমিটি কাজ করছে।

অন্যদিকে, রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই সহিংসতা থামাতে রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালার কাছে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। তিনি প্রশাসনকে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানোর পাশাপাশি দলীয় কর্মীদের শান্ত থাকার নির্দেশ দিয়ে বলেন, জয়ের আনন্দে যেন কেউ কারও ভাবাবেগে আঘাত বা সহিংসতা না করে।

মন্তব্য করুন